এই সংখ্যায় লিখেছেন:

ব্দে কারুকা

বৈশাখী সমাধি
(১লা বৈশাখ ১৪০৭ বাংলা, রমনার বটমূলে আতœঘাতি বোমা হামলায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি)
আবদুল হাসিব

সম্পর্ক চাচাতো ভাই-বোন তিনজন
রমনায় করতে যাবে বর্ষবরণ
মামুন এসেছিল ঘরে পূর্বের রাতে
বেলী ফুলের মালাটি ছিল তার হাতে
বলে গেল এই মালা যতেœ রেখ তুলে
সকালে খোঁপায় দিতে যেওনা যে ভুলে
আরও বলে গেল তারে বিনয় করে
লাল পাড়ের শাড়ি তুমি যেও গো পরে
পূর্ব আকাশ যখন রাঙা হয়ে এলো
শিল্পী’র মন কেমন এলোমেলো হলো
ভেবে চিন্তে উঠিলো সে বিছানাটি ছেড়ে
সাজিলো এমন রূপে চোখ নিলো কেড়ে
পায়ে হেঁটে ছায়ানটে যোগ দিলো এসে
চেয়ে দেখে বেলীফুল হাসে কেশে কেশে
গদ্যে পদ্যে সুর ছন্দে গানে গানে নৃত্যে
শ্রোতারা মুখরিত করে আনন্দ চিত্তে
একত্রে রিয়াজ-মামুন-শিল্পী’র পাশে
আসন নিয়েছিলো তারা সবুজ ঘাসে
হঠাৎ বিস্ফোরিয়া উঠে বোমার শব্দ
নয়টি প্রাণ হয়ে গেলো নিরব স্তব্ধ
নয়টি লাশের মাঝে মামুন-রিয়াজ
হাসপাতালের বেডে গেলো শিল্পী আজ
যেখানে জন্মেছিলো তারা পল্লীর ধামে
যোগল সমাধি হলো বৈশাখের নামে
হাসপাতালে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুর সাথে
অবশেষে শিল্পী গেলো মরণের হাতে
যেখানে চির নিদ্রায় দুই ভাই গেলো
তাদের পাশেই শিল্পীর সমাধি হলো
অবাক বিস্ময়ে ভাবে সারা দেশবাসি
এ কেমন নিষ্টুর মরণ সর্বগ্রাসী
কাছিপাড়া গ্রামে আজ বিষাদের ডেউ
ভুলে নাই ভুলিবে না দেশবাসী কেউ।

(রচনাকালঃ ১লা বৈশাখ ১৪০৭ বাংলা)

অটোয়া, কানাডা।   

 

রক্তাক্ত বৈশাখ
(১লা বৈশাখ ১৪০৭ বাংলা, রমনার বটমূলে আতœঘাতি বোমা হামলায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি)
 আবদুল হাসিব

রমনার বটমূলে রক্ত ঝরাতে আসিনি!
আমরা এসেছি কৃষ্টির ঐশ্বর্যের স্রোতধারায়
চিরাচরিত প্রতায় হাসি মুখে বর্ষ বরণ করতে।
এই সাত সকালে সবুজ চত্ত্বরে রক্ত ঝরাতে
আমরা আসিনি, এসেছি অঙ্গন ভরে —
শুভ্র শেফালী ছড়াতে
এসেছি আলাওল কায়কোবাদ নজরুল
জীবনানন্দের ঐতিহ্যের কথা নিয়ে
রবীন্দ্র নাথের প্রিয় সেই গানটি গাইতে
“এসো এসো হে বৈশাখ এসো এসো”
পাখির কাকলী ভরা এই ভোরে
পুষ্পায়িত প্রকৃতির প্রিয় বুকে
কবিতা আসরে চিত্রাঙ্কনে নৃত্যে
গীতি নাট্যে সঙ্গীতে নিমগ্ন জনতায়
আনন্দের ফল্গুধারা যখনই উপচে পড়ছে
ঠিক তখনই মানুষ নামের নিকৃষ্ট পশুর দল
আতœঘাতি বোমা হামলায়
কেড়ে নিল ন’টি তাজা প্রাণ
আরো অনেক হলো গুরুতর আহত
বড়ই অসহায় ভাবে বরণীয় হলো পঙ্গুত্ব!

এ কি ! কি হতে যাচ্ছে ওখানে, — ওরা কারা?
আমাদের কষ্টার্জিত এই সোনার বাংলায়?
তবে কি ওরা ঐ একাত্তরের সেই কুখ্যাত রাজাকার!
শিয়াল শকুনের রক্ত চক্ষু এখনো কি রয়ে গেছে বাংলায়?

আজ আমি আমার ঘৃণার
সমস্ত শক্তি দিয়ে থুথু দিচ্ছি ঐ নর-পশুদের মুখে!
আহ্বান করছি স্বচেতন জনতার কাছে
ওদের বিভীষিকাময় শাস্তির জন্যে,
একাত্তরের মত আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে
ওদের বংশ পর্যন্ত বিনষ্ট করতে।

(রচনাকালঃ ১লা বৈশাখ ১৪০৭ বাংলা)

অটোয়া, কানাডা।    

==================

আবদুল হাসিবর তিনটি কবিতা

স্বাধীনতা জ্বল জ্বল করে ওঠেছিলো
ছাব্বিশে মার্চের কালো রাত

 

স্তব্ধতার বুক বিদীর্ণ মানুষের ভয়ার্ত আর্তনাদ

অলিতে গলিতে অগণিত লাশ

পিচঢালা  কালো পথে রক্তেস্রোত

ধর্ষিতার কন্ঠছিড়ে আসা অসহায় চিৎকার

মা-বোনদের ক্ষত-বিক্ষত বিবস্ত্র শরীর;

আর কঁচি শিশুর বেনেটবিদ্ধ নগ্ন বুক থেকে

তপ্ত রক্ত যখন পড়ছে

ঠিক তখনই লাল রক্ত ছুঁয়ে

মাতৃ-মৃত্তিকার পবিত্রতা রক্ষা আর

প্রিয় প্রত্যাশিত স্বাধীনতা আনবার জন্যে

সে দিন হিমাদ্্ির কঠিন প্রতিজ্ঞা ছিল আমাদের।

 

সূর্যসেন, তিতোমীর, সালাম, রফিক,

বরকত আর জব্বারের রক্তের অস্থিত্ব

সে দিন আগ্নেয়গিরির অগ্নোৎপাতের মতই

জ্বলে জ্বলে উঠেছিলো বাঙালী সত্তায়!

সর্বস্ব নিয়ে মত্ত-মাদল রোষে

শত্রু নিধনে পাগল ছিলাম কাল-বৈশাখী বেগে।

জাতি ধর্ম গোত্র নির্বিশেষে, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে

দুলক্ষ মা-বোনের ইজ্জত হারানোর

করুণ কান্নায় বাংলার বাতাস ভারি করে

ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে তেরশো নদী প্লাবিত করে

পেয়েছিলাম আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা;

আমরা পেয়েছিলাম রক্তমাখা প্রাণের প্রিয় পতাকা।

বিজয়ের উচ্ছসিত আনন্দের উর্মিমালা

সে দিন বাঙ্গালীর অস্থিত্বে

উন্মাতাল হয়েছিল অসম্ভব বিস্ময়কর শক্তিতে।

 

বিধবা বধুদের চোখের জল

সে দিন স্বাধীনতার সূর্য-রশ্মিতে হীরার মত

ঝিকমিক করছিল; স্বাধীনতাকে পেয়ে তাঁরা যেন কিছুই হারায়নি!

গন্তানহারা মায়ের চোখ

জলে ভরে গেলেও  জ্যোৎস্নায় হরিণের চোখের মত

জ্বল জ্বল করে উঠেছিলো

স্বাধীনতার মহানন্দে সেদিন!

 

বন্ধুর জন্যে কাঁদে

আজ বন্ধুর জন্যে একটি দেশ কাঁদে

একটি পতাকা কাঁদে

কাঁদে নদী জল বায়ূ মেঘ গুল্মলতা ফুল-ফল

আর কাঁদে নিপীড়িত মানুষের দল।

প্রজন্মরা প্রশ্ন রাখে,

হৃদয়ের এত কাছের বন্ধু যে ছিল

কোথায় কেমন করে কখন হারালে তাঁরে?

কোনো শক্তি কি আর উত্তরটাকে গোপন রাখতে পারে!

 

উনিশশ পচাত্তর এর

পনরই আগষ্ট! কলঙ্কময়ী রাতের শেষ প্রহর।

মানব ইতিহাসের জগন্যতম রক্ত পিপাষু

চেঙ্গিস হলাকু খাঁন রাওফরমান আলী

নিয়াজী আর টিক্কা খাঁনের উত্তর সূরীরা,

মোয়াজ্জিনের কন্ঠে নিঃসৃত আযান নিঃশেষ হওয়ার আগে

পশ্চিমের অস্তচাঁদ ডুবে যাবারও আগে

পূর্বাশায় রবি রঙ মাখারও আগে

অরণ্যের পাখি কন্ঠে গান ধরারও আগে

বন্ধুর বাড়ির বকুলরা দল মেলারও আগে

পায়রা গুলো ভোরের হাওয়ায় ডানা মেলারও আগে

বাঙ্গালীর স্বপ্ন-চিন্ত-চেতনাকে

ভালবাসার প্রদীপ্ত শিখাটিকে

স্বাধীনতার স্থপতি নির্মল ইতিহাসের বিমল বন্ধুকে

হিরোসীমাসম নিশ্চিন্ন করে দিল শিশু রাসেল সহ

ঐ উত্তর সূরীরা! ঐ আলবদর রাজাকাররা!

 

অতঃপর এখনো আশ্চর্য ;

সূর্যের মত নক্ষত্র পুঞ্জের মত পূর্ণ চাঁদের মত

লক্ষ কোটি মানুষের চোখের তারারন্দ্রে আজও

আপুষহীন উর্ধমুখী তর্জনী

ভরাট কন্ঠে বজ্রনিনাদ অনিরুদ্ধ বাণী,

্এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।

আজও জীবন্ত সমোজ্জ্বল উদ্ভাসিত।

 

আজও বন্ধুর জন্যে একটি দেশ কাঁদে

একটি পতাকা কাঁদে

লক্ষ কোটি মানুষের প্রাণ কাঁদে

কাঁদবে অনন্ত কাল,

যতকাল থাকবে শরীরে আমাদের

বাঙ্গালীর রক্ত বহমান।

 

তোমরা কি জানো

 বাংলার নতুন প্রজন্ম আমার

তোমরা কি জানো,

পাখিদের কন্ঠেও আতঙ্কে গান থেমে গিয়েছিলো

বনের হরিণ আহার ছেড়ে কাঁদতে শুরু করেছিলো

কখন কেন কোথায়?

একাত্তরের নয়টি মাস

ধর্ষিতাদের ভয়ার্ত আর্তনাদে

গানের পাখির দেশ এই রূপশ্রী বাংলায়!

 

বাংলার অরুণ তরুণ আমার

তোমরা কি জানো,

সর্ব কালের শ্রেষ্ট নৃশংস গনহত্যাযজ্ঞে

আদিমতাকে হার মানিয়ে ছিলো

কখন কারা কোথায়?

একাত্তরের নয়টি মাস

পশ্চিম পাকিস্তানিরা

সবুজ ঘাসের দেশ এই শ্যামল বাংলায়!

 

বাংলার আশার প্রদীপ আমার

তোমরা কি জানো

কোন দেশের তেরোশ নদী

মানুষের বুকের রক্তে প্লাবিত করেছিলো

কখন কারা কোথায়?

একাত্তরের নয়টি মাস

বর্বর বাহিনীর সশস্ত্র আক্রমণে

সোনালী ধানের দেশ এই সোনার বাংলায়।

 

বাংলার দামাল ছেলেরা আমার

তোমরা কি জানো

ঘর বাড়ি নয় কেবল, মানুষকেও

পুড়িয়ে পুড়িয়ে মেরে উল্লাস করেছে

কখন কারা কোথায়?

একাত্তরের নয়টি মাস

মির্জাফরের উত্তরসূরী নিয়াজী টিক্কা আর তাদের দুসররা

লাল কৃষ্ণচূড়ার দেশ ঐতিহাসিক এই রক্তাক্ত বাংলায়!

 

 অটোয়া, কানাডা E-mail:hasibporobashi@sympatico.ca

 

 

==================================

আবদুল হাসিবর তিনটি কবিতা
অভীপ্সিত বিজয়

(প্রজন্ম চত্বরের প্রতি এবং পরলোকগত জাহানারা ইমাম-কে নিবেদিত)

  

রক্তমাখা পতাকাটি আজ

একাত্তোরের মতই বন্ধনহীন বাতাসে

প্রবল উল্লাসে মেতে উঠছে;

শহীদ বুদ্ধিজীবি মাজারে ফুটে থাকা 

সব কটি ফুলের ঠোঁটেই কাক্সিক্ষত বিজয় হাসি ঝরছে।

 

মায়ের সমস্ত অবয়ব জুড়ে আজ

স্বর্গীয় হাসির আদর ঝরছে,

তুরাগ নদীর কল্লোলিত জলে

বনে বনে পাতার মর্মরে

শাখায় শাখায় পাখির কূজনে

তাঁর অভীপ্সিত বিজয়োল্লাস মহানন্দে ধ্বনিত হচ্ছে।

 

বাংলার লক্ষকোটি রুমি উদাত্ত আহ্বানে ডাকছে

আর বলছে, মা! মা গো! দেখো না মা! তোমার জন্যে বিজয় এনেছি!

আর ভেবো না মা; ওদের কালো হাত ভেঙ্গে দিয়েছি।

তোমার সন্তানেরা এখন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

ঘাতক দালাল নির্মূল করবোই করবো।

 

মা গো, রুমিবিহীন জীবনে বুকে ছিল তোমার জ্বলন্ত চিতা,

চোখের পাতায় বর্ষা নিয়ে বিনিদ্র রজনী কেটেছে অনেক।

বাংলার নিলাভ আকাশ আর মাটির মমতায়

প্রাঞ্জল প্রশান্তি নিয়ে এবার ঘুমাও তুমি ।

তোমার রেখে যাওয়া রুমিরা Ñকোন দিন তোমাকে ভুলবে না মা,

কোনদিন না, যেমন ভুলি নাই হাজার বছরের শ্রেষ্ট পুরুষ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে।

 

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, অটোয়া, কানাডা

 

যাবে কবে সোনার দেশটা ছাড়ি

 

শুভ্র বসনে মুখোশ পরা ত্রাস সঞ্চারীর দল,

তোরা শান্ত সোনার দেশটা ছেড়ে যাবে কবে বল।

রক্ত পানের নেশায় তোমরা কত যে উন্মাতাল

তোদের জন্যেই কত নারীর বাঙলো যে কপাল

হতভাগারা মুখোশ খুলে দেখ না একটি বার

কত ধর্শন কত ডাকাতি কতই অশান্তি আর             

বলতে হবে পাষাণ তোদের বলতে হবে আজ

ধর্মের নামে নিষ্টুরতার কত আছে আর কাজ

কত পশু লেলিয়ে দিয়েছো বিষ্ফোরণ ঘটাবার

কত মানুষের রগ কাটবে কত পঙ্গুত্ব আর।

আজ ধর্ম তোমরা পুঁজি করে ভুল ব্যাখ্যায় শুধু

সহজ সরল প্রাণের মাজে লাগাও মিষ্টি মধু

আরবী উর্দু নামকরনে বাহিনী গঠন করো

সুস্থ শান্ত মাথায় তোমরাই স্বার্থের পথ ধরো

পাষাণের মত হত্যা করে রাস্তায় যাও যে ফেলে

তোরা বুদ্ধিজীবি তরুণ ছাত্রের রক্ত মাংশ খেলে

তোমরা এতো সর্বনাশা কীড়া, আতœ গোপনকারী

সীমার তোদের লজ্জা পায় এমনই হত্যাকারী;

সন্তান হারা মায়ের বুকটা কোন পাষাণে বাঁধে,

রক্তে কেনা স্বদেশটা আজ ঘৃণায় গুমরে কাঁদে!

তোমরা মূর্খ তোমরা জারজ আমরা তাহা জানি,   

গলায় তোদের পরতেই হবে তৈরী হচ্ছে ফাঁসি।

 

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, অটোয়া, কানাডা

     

এই ঋণ অপরিশোধিত

 

তোমাদের স্মৃতির বেদীমূলে আমরা যারা

পুষ্প হাতে আজ সমেবেত,

ওদের কেউই তোমাদের ঋণ শোধ করতে আসিনি;

এসেছি কেবল মাতৃঋণের মতো অপরিশোধিত এই ঋণকে

অশ্রুসিক্ত করে শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করতে।

 

আমাদের শহীদ ভাইয়েরা, তোমরা সুনিশ্চিত থেকো

কোন দিনও আমরা বিস্মরণে গিয়ে

সুষুপ্তির মাঝে নিমজ্জিত হয়ে থাকবোনা;

তোমরা চিরকাল জ্বলবে তমসাচ্ছন্ন রাত্রির গায়ে

গুচ্ছ গুচ্ছ তারা হয়ে, বনানীতে জ্বলবে জোনাকী হয়ে,

কৌমুদীরাতে হবে ফুটন্ত কুমুদের ঝাঁড়

এই বাংলার হাওর বিলে শান্ত সরোবরে।

 

একুশ এলেই তোমাদের রক্তে ভেজা বর্ণমালা

বাংলার বৃক্ষ শাখায় জ্বলে জ্বলে উঠে পলাশ শিমুল হয়ে,

আমাদের চোখ ঝাঁপসা হয়ে আসে, বুকের কাছে বাজে

তোমাদের পায়ের দর্পধ্বণি!

দিনটি এলেই তোমাদের এই ঋণ আমাদের কাছে

আরো Ñ আরো Ñ অনেক বেশী আদ্রিয়মান হয়ে উঠে।

 

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, অটোয়া, কানাডা

 

—————————————-

 

 

 

 
 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*