কমিউনিটিতে নীরব বিপ্লব ! সাফল্য ও ব্যর্থতার এক যুগ (পুর্নাঙ্গ আর্টিকল)

 () প্রাথমিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াঃ বিগত এক যুগ ধরে ক্যানাডার বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে ধাপে ধাপে যে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে এসেছে তার উপর ভিত্তি করেই আমাদের এই সংক্ষিপ্ত আলোকপাত।

কম্যুনিটির স্বাস্থ্য, কম্যুনিটির শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, সমাজ সেবামুলক আচরণ, মূলস্রোতে যাত্রা,সঠিক নেতৃত্ব নির্ধারণ,র্মের সন্ধান, ইমিগ্রেশন,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সব মিলিয়ে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। ক্যানাডাতে আমাদের আগমন দীর্ঘদিনের নয় তবুও ষাট ও সত্তর এর দশকে ভাগ্যান্বেষনে আমাদের কিছু সাধারন বাঙ্গালী এবং কিছু ছাত্র উচ্চ শিক্ষার্থে ক্যানাডায় পাড়ি জমান।আশির দশক থেকেই মোটামুটি ধীরে ধীরে আমাদের যাত্রা আরম্ভ হয়। ক্যানাডার ইমিগ্রেশন সহজলভ্য হওয়াটাই ছিল তখন মূল কারণ। ইমিগ্রেশন ও কাজের অপর্যাপ্ততাই কম্যুনিটিকে দীর্ঘদিন রুগ্ন পুষ্টিহীন শিশু্র মত ঘরে বন্দী করে রাখে। অনেক উৎসাহী বাঙ্গালী সঞ্চয়ের সব ইনভেষ্ট করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন কিন্তু ক্যানাডার ভঙ্গুর অর্থনীতি কখনও তাদের সহায়ক ছিলনা। বিশেষত: দুর্বল মুদ্রা উৎসাহী ব্যবসায়ীদের সহায়ক ছিলনা। সাদ্দামের কুয়েত আক্রমনের প্রভাব সারা বিশ্বে মন্দা নিয়ে আসলে এর প্রভাব উত্তর আমেরিকাতে প্রচন্ড অনুভ হয়। তখন নিউইয়র্ক শহরে অনেক বাঙ্গালী ৫০ ডলার সাপ্তাহিক বেতনে কাজ করেছেন। ক্যানাডার বাঙ্গালী কম্যুনিটির এক বিরাট অংশ বেকার হয়ে পড়েন। অনেকেই সরকারী সাহায্যের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই মন্দা ক্যানাডার বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে একটি সুযোগও সৃষ্টি করে দিয়েছিল। অনেকেই চাকু্রী হারিয়ে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়ে যান, যা পরবর্তীতে সোনায় সোহাগা হয়ে দেখা দেয়। মন্দাকালীন সময়ে অর্জিত শিক্ষা কিছুদিন পরে হলেও কাজে লাগে। ঐ সময়ে কম্যুনিটিতে যে ঘাটতি  পরিলক্ষিত হয় তা হচ্ছে সঠিক দিক নির্দেশনার। ইমিগ্রেশন নিয়ে আসা নবাগত বাংলাদেশীরা অনেকটাই অসহায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়। নতুন পরিবেশ, নতুন ভাষা কোনটাই সহায়ক নয় এর উপর তখনও কমিউনিটিতে সুশৃংখল (অর্গেনাইজড) কোন সংস্থা গড়ে উঠেনি। কোন সেবামূলক সংস্থা,  ট্রেনিং  বা চাকুরির ট্রেনিং ইত্যাদি্ ব্যবস্হা পর্যাপ্ত ছিলনা সকলের মধ্যে এ নাই নাই যখন অনুভূত হয় তখন ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশন, কৃষিবিদ এসোসিয়েশন বা একাউন্টিং এসোসিয়েশন সংগঠিত হয়ে নিজেরাই নিজেদের সাহায্যার্তে এগিয়ে আসেন। এই আসাতে ধীরে ধীরে ফল দেখা দেয়। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অনেকেই ভাল ফল লাভে সমর্থ হন। ঐ সময়ে কম্যুনিটির সকল পেশাদার ও অপেশাদার সদস্যের সার্বিক কল্যাণে বি.সি.এস (বাংলাদেশী ক্যানেডিয়ান সোস্যাল সার্ভিসেস) এক যুগান্ত্কারী ভূমিকা নিয়ে সামনে এগিয়ে আসে। কম্যুনিটির বেশ কিছু নিবেদিত সদস্যের দিনরাত পরিশ্রমে বি.সি.এস কম্যুনিটির গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। হাজার হাজার নবাগত ইমিগ্র্যান্ট সহ কম্যুনিটির সর্বস্তরের সাহায্য প্রার্থী সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সেবা প্রদান করতে সমর্থ হয় বি.সি.এস। এই যাত্রা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে কম্যুনিটিতে আরও অনেক সেবা্মূলক সংস্থা গড়ে উঠেছে। অনেকেই  ভালো কাজ করছে আবার অনেকগুলো নেতৃত্বের কোন্দলে পড়ে অকেজো হয়ে রয়েছে। তবে সেবাদানকারী অনেক প্রতিষ্ঠান যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে আতুর ঘরেই ঝরে পড়বে বলে অনেকেই মনে করেন। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যদিয়ে আরেকটি দুরদর্শী পদক্ষেপ নিরবে সম্পন্ন হয়। আর তা হচ্ছে কম্যুনিটিকে মেইনষ্ট্রীম পলিটিক্স বা পলিটিশিয়ানদের দ্বারাপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া। বি.সি.এস এই পাইওনিয়ারের দায়িত্ব সম্পন্ন করে। বি.সি.এসের ডেডিকেটেড কিছু সমাজ সেবক এই সফলতার সৌভাগ্যবান। এই সৌভাগ্যবানেরজনের নাম হচ্ছে জনাব মোশতাক আহমদ, জনাব তৌহিদ নোমান , জনাব আব্দুল ওয়াহিদ সহ আরও অনেকে। এছাড়াও আরও অনেক সংগঠন ও ব্যক্তির প্রচেষ্টা কম্যুনিটিকে মূল স্রোতের স্বাদ পাইয়ে দিতে সাহায্য করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এল্যুমনাই এসোসিয়েশন, রিজেন্ট পার্ক এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশ কম্যুনিটি সহ আরও অনেক কালচারাল অর্গেনাইজেশনের প্রচেষ্টা কম্যুনিটিকে বেশ সম্মুখে এগিয়ে নিয়ে যায়। মূল স্রোতের পলিটিক্স সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ব্যক্তিগত ভাবে যারা কম্যুনিটির বিশেষ উপকার করেছেন এবং এখনও করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে এন.ডি.পি থেকে এম.পি প্রার্থী আলমগীর হোসাইন, লিবারেল থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী শরিফ আহমদ,আনোয়ারুল কবির, নাসিরুদ্দোজা, বাকী গাজী,  মনট্রিয়ল থেকে জনাব মিঃ মোস্তাক,   ( আরও কিছু উৎসাহী ব্যাক্তি রয়েছেন যাদের নাম আগামীতে সংযোজিত হবে ) । এছাড়াও আরও অনেকেই সরসরি মূল স্রোতের পলিটি্সিয়ানদের সাথে সংযুক্ত হয়ে নিরবে কাজ করে চলেছেন। ছোট ও নতুন কম্যুনিটি হলেও মেইনষ্ট্রীমের সাথে সম্পৃক্ততা একেবারে কম তা বলা যাবে না । তবে মেইনষ্ট্রীমের অভ্যন্তরে আমাদের দেশীয় কোন্দল যাতে ছড়িয়ে না যায় সে দিকে সুক্ষ নজর রাখা প্রয়োজন ।

(২)সাংস্কৃতিক বি্প্লবঃ এরপরই আলোচনাতে চলে আসে আমাদের সাংস্কৃতিক বি্প্লবের কথা। বিপ্লব বলছি এই কারনে, দুই দশকেরও কম সময়ে গড়ে উঠা কম্যুনিটি থেকে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার সম্মান পাইয়ে দিতে কানাডার বাংলাদেশীরাই প্রথমে অবদান রাখেন, সাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরষ্কার নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশী ক্যানেডিয়ান। একযুগ পূর্বের দিকে তাকালে সাংস্কৃতিক কর্ম বলতে মাঝে মধ্যে দেশ থেকে শিল্পী নিয়ে এসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করাটাই বুঝাতো। তখনও সাংগঠনিক ভাবে কোন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী গড়ে না উঠাতে বাংলাদেশের শিল্পী ও কুশলীদের উপরই ছিল একমাত্র ভরসা। বাংলাদেশ সোসাইটি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন টরন্টো, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন মন্ট্রিয়ল সহ আরও অনেক রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ঐ সমস্হ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিল। বাঙ্গালীরা নেতা প্রিয় জাতি তাই অনুষ্ঠানগুলোর মধ্য দিয়েই এই প্রতিযোগিতা ছিল লক্ষ্যণীয়। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হচ্ছে চাতকের মত বসে থাকা কম্যুনিটি এই অনুষ্ঠানগুলো থেকেই সাংস্কৃতিক আত্মতুষ্টি লাভ করতো। ধীরে ধীরে ক্যানাডায় ইমিগ্রেশনের সুবাধে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, শিল্পী, গায়ক, লেখক, টিভি ও মঞ্চ নাটকের ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মননশীল পেশার ব্যক্তিত্বদের আগমন কম্যুনিটিতে প্রাণ সঞ্চার করে। গান শেখা, নাচ শেখা, বাংলা শেখা, চিত্রকলা শেখা সহ নানাবিধ কমার্শিয়াল সংস্থা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে কম্যুনিটির অভাব রাতারাতি পূরন করে দেয়। ক্যানাডাতে এখন কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশী শিল্পীদের উপর ভরসা করে বসে থাকতে হয় না। এই সব কিছুর সাথে এখন চমকে দিয়ে জড়িত হয়েছে মেধার কারু কাজ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রাদেশিক পরিষদ পর্যন্ত নানাবিধ উ্ল্লেখযোগ্য অবদানের মূল দাবীদার এখন নবাগত মেধাবী শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব আর নিবেদিত কম্যুনিটি সেবকরা। আগেই বলেছি বাঙ্গালীরা নেতা প্রিয় জাতি, তাই বোধহয় গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মত ৬০টিরও বেশী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সকলেরই প্রচেষ্টা ভাল কিছু করার, কম্যুনিটির জন্য দেশের জন্য। এতে লাভ হচ্ছে না তা বলা যাবেনা , ন্তত চিন্তায় জ্ঞান-অভিজ্ঞতা-দূরদর্শিতার এক্সারসাইজ তো হচ্ছে। উদীচি, ছায়ানটের মত সর্বজন আদৃত সাংস্কৃতিক সংস্থার পাশাপাশি আরো অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠনও এখানে গড়ে উঠেছে , সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পেয়েছে গতিময়তা। আলমপিয়া, সাতসুর, সুকন্যা ইত্যাদি আরও বেশ কটি সাংস্কৃতিক ও নাচ গানের স্কুল গড়ে উঠাতে নতুন প্রজন্মের শিশুরাও পাচ্ছে বাঙ্গালীত্বের স্বাদ। ক্যানাডার বিভিন্ন উৎসবাদিতে আজ বাঙ্গালী কায়দায় পালন করার রেওয়াজ সৃষ্টি হচ্ছেসাথে বহুজাতিক এই দেশের অন্যান্য জাতিরাও পাচ্ছে বাঙ্গালীপনার আমেজ। চিত্রকর্ম প্রদর্শন, বাঙ্গালী ছবি প্রদর্শন, নাট্য মঞ্চস্থ, নাট্য চর্চা, কবিতা ও সাহিত্যচর্চা কম্যুনিটি ছাড়িয়ে আজ মূল স্রোতের দ্বারে যাওয়ার প্রচেষ্টায়। বাংলাদেশী বাঙ্গালী প্রফেসর মহাদেব চক্রবর্তীর অর্থানুকুল্যে বাংলা শিক্ষার কোর্স চালু হয়েছে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে যদিও বর্তমানে তা হুমকির মুখে। বাঙ্গালী শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন স্কুলে বাংলা ক্লাস চালু হলেও অপর্যাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের কারণে ওগুলোও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বাংলা ভাষাকে প্রবাসে প্রতিষ্ঠিত করন এবং প্রজন্মের মধ্য দিয়ে জিইয়ে রাখতে হলে আর কর্মতৎপরতার প্রয়োজন। শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকেই বেশ জোরেশোরে কাজ করে যাচ্ছেন, হয়তোবা একদিন এক্ষেত্রেও সফলতা আসবে। সরকারী অর্থানুকুল্যে বাংলাদেশ সেন্টার গড়ে উঠেছে ঠিকই কিন্তু  দলীয় কোন্দল হেতু  আজও তা কমিউনিটির ভরসাস্থল হয়ে উঠতে পারে নাই।  আমাদের প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলে কম্যুনিটির ঝান্ডা তাদের হাতে অর্পন করা , তখনি সফলতার মুখ দেখা যাবে তা নিশ্চিত ।

(৩)কম্যূনিটির শিক্ষা পর্ব  : এরপরই কম্যুনিটিতে যে প্রসঙ্গটি আসে তা হচ্ছে শিক্ষা। বিগত ১২ বৎসরে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক উন্নতি সাধন হয়েছে সত্যি কিন্তু অন্য জাতির মত ( চায়নিজ, ইন্ডিয়ান) শিক্ষাই যে উন্নতির একমাত্র চাবি তা সম্পূর্ন রূপে আমরা এখনও অনুধাবন করতে পারি নাই । নবাগত ইমিগ্রান্টদের অনেকেই আপগ্রেড করার জন্য বা চাকু্রীর ন্য বিভিন্ন কলেজ ইউনিভার্সিটি থেকে সংক্ষিপ্ত সার্টিফিকেশন কোর্স অথবা গ্র্যাজুয়েট কোর্স করছেন। দেশ থেকে স্টুডেন্ট হয়ে এখানে এসে পড়ালেখা করা আমাদের অনেকেরই পক্ষেই সম্ভব ছিল না। সুতরাং সুযোগ যখন পাওয়া গেল তখন তাকে কাজে লাগানো উচিৎ। এই দেশের সামাজিক অবস্থান, অর্থনীতি, রাজনীতি বুঝে উঠার জন্য এখানের শিক্ষা খুবই প্রয়োজন, সারাটি জীবন এই  দেশে প্রাচুর্য্যের মধ্যে বাস করেও মৌলিক অনেক কিছু থেকেই অজ্ঞ রয়ে গেছেন এরকম লোকের সংখ্যাও এখানে কম নয়। শুধু বাঙ্গালী নয় আরও বিভিন্ন দেশের মানুষের অবস্থা একই। এ বিষয়টিকে আমাদের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিৎ। এদেশের লোকেরা মৃত্যুর আগের দিনও স্কুলে যায়। আমাদের প্রজন্মের শিক্ষা আনুপাতিক হারে ভাল চললেও একশত ভাগ ভাল বলা যাবে না। একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হাইস্কুলের গন্ডি পার হবার আগে অথবা পার হওয়ার পর পরই অর্থ রোজগারের দিকে ঝুঁকে পড়ছে ফলে উন্নত দেশের নাগরিক হয়েও উচ্চশিক্ষা থেকে ওরা হচ্ছে বঞ্চিত। এর পেছনে মা বাবার অমনোযোগ এবং সংসারের বিলাসী স্বচ্ছলতার খেয়াল সমানভাবে দায়ী। অনেক মা বাবা মেয়েদেরকে খুব বেশী পড়ানোর পক্ষপাতী নন- ফলে হাইস্কুলে খুব ভাল রেজাল্ট করেও ছিটকে পড়ছে অনেক মেধাবী ছাত্রী। দেশ থেকে আসা ক্রমাগত টাকা পাঠানোর আবদারও এর পেছনে অনেকাংশে দায়ী। দেশে থাকা অকেজো ফ্যামিলির বিলাসী চাহিদা মেটাতে অনেক মেধাবী ছাত্ররা স্কুল ছেড়ে নুন্যতম বেতনের চাকুরীতে ঢুকে পড়ছে। সংসারের টানা হেচড়া দেখে মা বাবও কিছু বলছেন না। এই অবস্থা একটি আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। মা বাবা নির্দিষ্ট আয়ের ভিত্তিতে বা সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোর দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। দেশে বসে বসে কাড়ি কাড়ি টাকা ধ্বংস করে যাওয়া আত্মীয় স্বজনদের প্রতি কিছুটা কঠোরতা প্রয়োগের প্রয়োজন। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রবাসের জীবন যাত্রা এবং কঠোর পরিশ্রমের একটি চিত্র দেশের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে পৌছে দেওয়া প্রয়োজন। সন্তানদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোন ভাবেই বের হয়ে আসতে দেওয়া যাবে না, এই  দৃঢ় সংকল্প সকল মা বাবার মধ্যে গড়ে তোলা প্রয়োজন , তা না হলে উন্নত দেশে থাকার কোন যৌক্তিকতা নাইসন্তানদের শিক্ষা বা প্রজন্মের শিক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যে কটি সংগঠন যুগানত্দকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্টারিও বাংলাদেশী এডুকেটরস অবসেস ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের  যৌথ সহায়তায়  বাৎসরিক বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদেরকে উৎসাহিত করছে। বেশ কবছর যাবৎ গ্রেটার সিলেট জালালাবাদ সোস্যাল এন্ড কালচারাল অর্গেনাইজেশন বৃহত্তর সিলেটের ছাত্র ছাত্রীদেরকে এওয়ার্ড প্রদান করে উৎসাহিত করে চলেছে। আরও কিছু কিছু সংগঠন এই কাজে মাঠে নামছে । কম্যুনিটির অন্যান্য সংগঠন ব্যাপকহারে এ ধরণের মহতী কাজে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। মন্ট্রিয়ল বা কুইবেক এ বসবাসরত বাংলাদেশীরা ফ্রেঞ্চ শিক্ষার একটি বাড়তি সুযোগ পাচ্ছেন। যদিও অন্যান্য প্রভিন্সএ ফ্রেঞ্চ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মন্ট্রিয়েলে ফ্রেঞ্চ শিখা অনেক সহজতর এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিৎ নয়। সাথে ইংরেজীতে যেন সন্তানরা পারদর্শী হয়ে উঠে তা যেকোন মূল্যে সম্পন্ন করতে হবে। ইংরেজী এখন শুধুই একটি ভাষা নয়- এটির আরেক নাম “অর্থনীতি” বিশ্ব অর্থনীতি এখন ইংরেজীর উপরই নির্ভর করে চলে। য়ত: যে যত বেশী ভাষা জানে সে তত স্মার্ট তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সুতরাং প্রজন্ম যেন ইংরেজী  ফ্রেঞ্চের পাশাপাশি  শুদ্ধ বাংলা , আঞলিক বাংলা,  ন্স্প্যানিস ,এরাবিক ইত্যাদি শিখে বড় হয়ে উঠে সেই দায়িত্ব পিতা মাতার। পিতা মাতাকেও ভাষা শেখার পাশাপাশি নিজেদেরকে এডুকেট করে নিয়ে সন্তানদেরকে নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষার প্রসঙ্গ যখন আসে তখনই ধর্মীয় শিক্ষার কথাও বলতে হয়। ক্যানাডাতে বাঙ্গালীদের তত্ত্বাবধানে ধর্মীয় শিক্ষার কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে নাই টরন্টো ও মন্টিয়লে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে কিন্তু প্রফেশনালিজম এখনও অনেক দূরে । এখনও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেশের মতই মক্তবে বা মন্দিরে বা চার্চে গিয়ে মাঝে মধ্যে বা সপ্তাহে একদিন তালিম নিয়ে আসা। অথবা ধর্মীয় শিক্ষক ঘরে এসে ঘন্টা দু্এক তালিম দেওয়া। এভাবে ধর্মীয় শিক্ষার মৌলিক জ্ঞান নিয়ে সন্তানরা বড় হয়ে উঠতে পারে না। ক্যানাডাতে বাংলাদেশীদের প্রচেষ্টায় মসজিদ মন্দির গড়ে উঠেছে এবং উঠছেএগুলোর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ধর্মীয় শিক্ষায় জ্ঞানী শিক্ষিকদের দিয়ে প্রজন্মকে সঠিক গাইড দেওয়া প্রয়োজন। এই প্রচেষ্টা খুব শীঘ্রই প্রয়োজন কারণ একটি প্রজন্ম যদি ধর্মীয় শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে যায় তাহলে পরবর্তী প্রজন্মকে এ পথে নিয় আসা দুরুহ হবে। টেরোরিজম নিয়ে অনেক সন্তানরা অন্তর্দন্ধে ভোগে ।এই অবস্থায় খুব সুন্দরভাবে আনুষ্টানিকভাবে  প্রজন্মকে বুঝতে হবে যে টেররিজমের সাথে মুসলমান বা ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। টেররিজম হচ্ছে আমেরিকা নিজস্ব সৃষ্টি এক বিশ্বস্থ শত্রু। বয়স্ক শিক্ষা এ সমাজের একটি ভাইটাল পার্টআমাদের দেশ থেকে আসা অনেকেই বয়স্ক শিক্ষকে লজ্জার চোখে দেখেন। এই ভূ ধানা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমি স্কুলে যাই নাই বা মাত্র দু’দিন গিয়ে ছিলাম বলে শিক্ষা  গ্রহণ করতে পারবো ন এই ধারনা নিতান্তভূল আপনার শিক্ষা আপনার সন্তানদেরকে , আপনার সমাজকে ভা কিছু দিয়ে যাবার জন্য মূখ্য হাতিয়ার। কম্যূনিটির  অনেক শিক্ষিত স্বল্প শিক্ষিত ব্যক্তিরা প্রাইভেট স্কুল , টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড , বিভিন্ন কলেজ থেকে অফার করা সংক্ষিপ্ত কোর্স কর ছেন। এটা খুবই ভাল লক্ষন। যার দীর্ঘ দিন ক্যানাডাতে থেকে মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত তাদের এক্ষুনি সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। ভূলেও বয়সের দিকে তাকাবেন ন মহানবীর (স:) বাণী স্মরন করে এক্ষুনি জ্ঞানার্জনে লেগে যান। আমাদের মন রাখা উচিৎ শিক্ষাই একমাত্র মানুষকে ব করে পরিচয় করিয়ে দেয়, অন্যদিকে শিক্ষাই এখন ধন  শিক্ষা প্রসঙ্গ আসলে ইন্টারনেটের কথা বলতেই হয়টেকনোলজিক্যা রিভোলুশানের যুগে ইন্টারনেটকে কেন্দ্র  করে আজ পৃথিবী খোরপাক খাচ্ছে । পৃথিবীর সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে ইন্টারনেটক্যানাডাতে বসবাসরত আমাদের সবার ঘরেই কম্প্যুটার রয়েছে। (মাত্র ১০০ ডলারে  কম্প্যুটার পাওয়া যাচ্ছে) মাত্র ১৫ দিনে শিখে নিয়ে সারা বিশ্বকে  হাতের মুঠোর নিয়ে আসা যায়কম্যুনিটি ভিক্তিক বিভিন্ন সংগঠন এ ধরনের একটি গুরুত্ব পূর্ণ কাজে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। মাত্র ৬ মাসের প্রচেষ্টার যে কোন সংগঠন কয়েক শ লোকদের ইন্টারনেটের স্বাদ পাইয়ে দিতে পারে।

(৪) কম্যূনিটির সংবাদ মাধ্যমের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাঙ্গালী কম্যুনিটি যেখানে গড়ে উঠছে সেখানে বাংলা সংবাদ প্রকাশের প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। বৃটেনে, আমেরিকাতে, মধ্য প্রাচ্য, অষ্ট্রেলিয়াতে বাঙ্গালী কম্যুনিটি যেখানে রয়েছে সেখানে বাংলা সংবাদ মাধ্যম গড়ে উঠছে। একটি সংবাদপত্র একটি কম্যুনিটিকে তিলে তিলে গড়ে তোলে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বোধ সুদৃঢ়করন , সাংস্কৃতিক চর্চা, ব্যবসা বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সাফল্যের ক্ষেত্রে কম্যুনিটির সংবাদপত্রের কোন বিকল্প নেই। তাই অন্যান্য দেশের কম্যুনিটির মতই ক্যানাডাতেও কম্যুনিটির সংবাদ পত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।প্রায় দেড় যুগেরও আগে কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে নজরুল ইসলাম মিন্টু সাপ্তাহিক দেশে বিদেশে কম্যুনিটিকে উপহার দেন। আজকে যারা সংবাদপত্র প্রকাশ বা সম্পাদনার সাথে জড়িত তাদের অনেকেই বিশ্বাস করতে পারবেন না ইন্টারনেট বিহীন (যৎসামান্য সুবিধা মাত্র )বা টেকনোলজি বিহীন সংবাদপত্র প্রকাশনা যে বাস্তব জীবনে কত অসম্ভব ছিল। অথচ মানুষ তা করেছে তার জীবনের প্রয়োজনে, সংস্কৃতির প্রয়োজনে। ধীরে ধীরে দেশে বিদেশেই হয়ে উঠে কম্যুনিটির সুখ দুঃখের সাথী । শুধু এই শেষ নয়, দেশে বিদেশেকে পুজি করেই হাটি হাটি পা পা করে কম্যুনিটি এগিয়ে যায় সম্মুখের দিকে। ব্যবসা বানিজ্য, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে আসে গতিময়তা । শুধু এই শেষ নয় দেশে বিদেশেতে লিখেই অনেকে প্রতিষ্ঠিত লেখকের মর্যাদা পেয়েছেন তার অনেক প্রমাণ রয়েছে। আরেকটি বিষয় সর্বজন স্বীকৃত যে অদ্যাবধি ক্যানাডা থেকে যত সংবাদপত্রই প্রকাশিত হয়েছে দেশে বিদেশের প্রিন্টেড কপি, ডিজাইন, তারপর গুণাগুণ বা কোয়ালিটির দিক থেকে বন্ধ হওয়ার পূর্ব দিন পর্যন্ত তার স্পষ্টতার সাক্ষর রেখেছিল। দেশে বিদেশের এই শ্রেষ্টত্ব ধরে রাখার মূলে আরও ২টি কারণ নিহিত ছিল। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে এর সম্পাদনার দায়িত্ব । অভিজ্ঞ লেখক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক জনাব তাজুল মোহাম্মদ তার শক্ত কলমে শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যটি হচ্ছে নজরুল ইসলাম মিন্টুর পরিবার বর্গ । তাদের সকলের সরাসরি শ্রম এবং আর্থিক ও মানসিক দৃঢ়তা দেশে বিদেশে কে কম্যুনিটির সংবাদপত্র হিসাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলে। আশ্চর্য্য হলেও সত্যি যে এখন পর্যন্ত কম্যূনিটির অনেকেই দেশেবিদেশে র উপস্হিথি যেন অনুভব করেন এবং সমগ্র কম্যূনিটিও তার পূন প্রকাশনার তাগিদ অনুভব করে । এরপরই এক দীর্ঘ প্রচেষ্টার দীর্ঘ যাত্রায় আমরা পেয়ে যাই সাপ্তাহিক বাংলা কাগজ কে । অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে কম্যুনিটিকে দীর্ঘ দিন যাবৎ সেবাদানের দাবীদার হচ্ছে বাংলা কাজ । জন্ম থেকে এই সংবাদপত্র তার স্বতত্ন্ত্র বৈশিষ্টতা নিয়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে। সম্পদনায় নিজস্ব ঢং, সাম্প্রদায়ীক বিদ্বেষী চেতনা পত্রিকাটিকে পাঠকদের কাছে সমাদৃত করে রেখেছে। সংবাদপত্রের এই দীর্ঘ পথ যাত্রায় এম আর জাহাঙ্গীর ও সম্পাদক জনাব খুরশিদ আলমের পরিশ্রম ও নীতি কৌশলই ছিল মূখ্য অবদান। কম্যূনিটিকে বিনামূল্যে সংবাদপত্র উপহার বাংলা কাগজের মাধ্যমে সূচনা হয় ।

এর পর চলে আসে অধূনালুপ্ত বাংলা রিপোর্টারের কথা। মাত্র এক বৎসরের মধ্যেই পত্রিকাটি কম্যুনিটির নজর কাড়তে সক্ষম হয়। মিডিয়া অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব সুমন রহমানের সম্পাদনা পত্রিকাটিতে চমক এনে দেয়।বাংলা রিপোর্টারের সিলেট কর্নার (ক্যানাডাবিডি নিউজ সম্পাদক ফয়জুল হক লিখিত ) নামে সিলেটের ২ হাজার বছরের ধারাবাহিক ইতিহাস সকল বাংলাদেশীকে এক নতুন উদ্দীপনায় উদ্ধুদ্ব করে তোলে। সিলেট কর্নার পাঠককে এক নতুন তাগিদে ইতিহাসের আকর্ষণ নিয়ে উপস্থিত হয় সবার সামনে। সিলেট কর্নার যে সময়ের সঠিক সংযোজন ছিল তার প্রমাণ অদ্যাবধি পাওয়া যায়। বিভিন্ন সংবাদপত্র সহ ম্যাগাজিন, সুভ্যেনির আজ সিলেটের ইতিহাস নিয়ে মুখর, যা সত্যি আনন্দদায়ক। সাপ্তাহিক সময় পত্রিকাও অনেক চড়াই উতরাই পার হতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল। কম্যুনিটির নানাবিধ সমস্যা এবং মুলধারার রাজনীতিতে বাঙ্গালীর একাত্ম হওয়ার অনেক প্রচলিত কথা জানা যেতো সম্পাদকের কলাম থেকে, সম্পাদক আলমগীর হুসাইনের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততাই পত্রিকাটির বাড়তি সংযোজন ছিল । এরপর বাংলা নিউজ সহ আরও অনেক গুলো বন্ধ হয়ে গেছে । ইংরেজী সাপ্তাহিক বাংলাদেশ মিরর বেশ জৌলশ নিয়ে বের হয়েই বন্দ্ধ হয়ে গেল । আবার অনেকগুলো নিয়মিত বের হচ্ছে। বাংলা কাগজের অদ্যাবধি দীর্ঘ যাত্রা ছাড়াও কম্যূনিটিতে আরও ৩ পত্রিকা বের হচ্ছে, আজকাল , দেশের আলো ও মন্ট্রিয়লের যোগাযোগ । প্রতিটি সংবাদ পত্রই কোন না কোন ভাবে কম্যুনিটির সেবায় নিয়োজিত । প্রকাশনার স্বল্প দিনের মধ্যেই “আজকাল” কম্যূনিটির নামী লেখকদের সহযোগীতায় কম্যূনিটির নজরে আসে ।ক্যানাডা থেকে অনলাইন বাংলা সংবাদপত্র নতুন নয়, ১৯৯৫/১৯৯৭ সালে চড়া মূল্যে অনলাইন ফি দিয়েও বাঙ্গালীরা অনলাইন বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশনা করেছেন ।১৯৯৭ সালেই দেশে বিদেশে অনলাইনে আসে । উচ্ছ মূল্য হওয়ায় বাঙ্গালী ব্যাবহাকারীর সংখ্যা ছিল হাতে গুনা । ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় ইদানিং কানাডা থেকে অনলাইনে আরও কটি সংবাদ পত্র বের হচ্ছে, এর মধ্যে ক্যান বাংলা , দি বেঙ্গলি টাইমস, নতুন দেশ, ক্যানাডাবিডি নিউজ (Instructional ) , দেশী টিভি নিউজ নেটওয়ার্ক (মাসিক) নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে, অনিয়মিত ভাবে দেশ কানাডা সহ আরও দুএকটি বের হচ্ছে । এগুলোর গুণগত মান প্রশংসার দাবীদার। সঠিক সংবাদ এবং কম্যুনিটির সংবাদ বর্হিবিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে এই সংবাদপত্র গুলো বাংলা ভাষীদেরকে বিশ্বের অন্যান্য বাংলাভাষীদের সাথে তাত্ত্বিক সম্পর্ক ছাড়াও গড়ে তুলছে তথ্যের নেটওয়ার্ক। ক্যানাডায় ২য় বৃহৎ বাঙ্গালী বসতিস্থান মন্ট্রিয়ল থেকেও বাঙ্গালীদের প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। সময়ে সময়ে বিভিন্ন নামের সংবাদ পত্র বের হয়েছে আবার বন্ধ হয়েছে। কিন্তু অনবরত প্রচেষ্টাও যে রয়েছে তা লক্ষ্যণীয়। সংবাদপত্র নিয়ে কম্যুনিটিতে অনেক অপ্রত্যাশিত ঘটনাও যে ঘটে নাই এমন নয়। এটাও যে এক ধরণের বাঙ্গলীপনা তা অস্বীকার করা যায় না। সাংবাদিক হয়ে কেউ জন্ম নেয়না সত্য কিন্তু সাংবাদিকতা করার ইচ্ছে থাকলে জানা ও সেই সাথে নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করে যেতে হয়। সংবাদ মাধ্যমের প্রসঙ্গ আসলে টেলিভিশন চ্যানেল গুলোর কথাও বলতে হয়। সুমন রহমানের তত্ত্বাবধানে এটিএন বাংলা যেমন আমাদেরকে দেশের সাথে সেতু বন্দ্ধনে রাখছে ভূমিকা তেমনি কম্যুনিটির সংবাদ প্রচার / অনুষ্ঠান প্রচার করে বিশ্বের দরবারে পৌছে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলা টিভি নামে পাক্ষিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান জনাব সাজ্জাদ আলীর পরিচালনায় কম্যুনিটিকে দিয়ে আসছে ভিন্ন স্বাদের সাংস্কৃতিক আমেজ। তার নিখুত পরিচালনা ও অভিজ্ঞতার ছাপ ফুটে উঠে প্রকাশনায় । এছাড়া ড: মনজুরই খুদার পরিচালনায় দেশী টেলিভিশন ইনক নামে বাংলা চ্যানেল । এভাবে বাঙ্গালী কম্যুনিটিতে অনেকের প্রচেষ্টা লেগেই রয়েছে। আশাকরি অচিরেই হয়তো একদিন কম্যুনিটির নিজস্ব সংবাদ চ্যানেল চবি্বশ ঘন্টার সেবা নিয়ে আমাদের কাছে আসবে। সংবাদ মাধ্যম নিয়ে ভবিষ্যতে আমাদের আরও প্রতিবেদন থাকবে বলে আশা করছি।

 

()কম্যুনিটির ব্যবসার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস –এরপরই যে পরিবর্তনটি বেশ লক্ষনীয় তা হচ্ছে কম্যুনিটির ব্যবসা । অন্যভাষায় ব্যবসাকে কমুনিটির স্বাস্থ্য বা কম্যুনিটির অর্থনীতির চাকা বলা চলে। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নাই যেখানে চায়নীজরা আছে অথচ চায়না টাউন গড়ে ওঠে নাই । পারস্পারিক সহযোগিতা, রক্তের টান, ভাষিক ও সংস্কৃতিক বন্ধনেই যে তার প্রধান কারন তা অস্বীকার করা যায় না। বৃটেনের সর্বত্র, নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার অন্যান্য শহরেও বাঙ্গালীদের ব্যবসা প্রতিষ্টান গড়ে উঠছে। ১২ বছর পূর্বে এই টরন্টো শহরে হাতে গুনা কটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন দেশ থেকে অনেকে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে এসেছেনশুধু টরন্টো শহরেই ১০/১২ গ্রোসারী , ট্রেভেল এজেন্সী, ল ফার্ম, কাপড়ের দোকান , ইন্মুরেন্স কোম্পানী, লার্নিং সেন্টার,ড্রাইভিং স্কুল গড়ে উঠেছে। অনেকগুলো একাউন্টিং ব্যাবসা , মানি এক্সচেঞ্চ , বিভিন্ন ধরনের ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান সহ কনভিনিয়েন্ট স্টোরের উপস্হিতি লক্ষ্যনীয় ।রিয়েল এস্টেট ব্যাবসায় কম্যুনিটির ব্রোকার এবং এজেন্টরা নিয়ে এসেছে এক বৈপ্লবিক সাফল্য, উনাদের প্রচেষ্টায় অন্যান্য কম্যুনিটির ক্রেতা ধীরে ধীরে বাঙ্গালী ব্রোকার এবং এজেন্টদের সার্ভিসে ভরসা করতে শুরু করেছে , এতে কম্যুনিটিতে অর্থের প্রবাহ হচ্ছে , কম্যুনিটির নবাগত উৎসাহী ব্যাবসাহীরা সাহস পাচ্ছে , কনজুমার কনফিডেন্স বাড়ছে , সুনাম হচ্ছে কম্যূনিটির ।আমাদের ক্রেতাদেরকেও নিজেদের উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে অন্যের সাহায্য নেওয়ার আগে নিজেদের মধ্যেই একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে ।

এখন অনেক কিছুই আমাদের দ্বারা সম্ভব যা আগে ছিল অনেকটা কম্পনাযোগ্য। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আবার শুধু্ই কমুনিটি নির্ভর।নিজেদের মধ্যে যে নির্ভরতা তার উপর একটা বিশ্বাস জন্মে উঠে। শুধুই ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্পর্কের অনেক উর্ধে্ব এই সম্পর্কের বাধন। তাই ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান গুলোকে এই বাঁধনের ব্যত্যয় করা কম্যুনিটির জন্য মারাত্বক হুমকি। কম্যুনিটিকে সবার উধ্বে স্থান দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ব্যবসাকে আধূনিকি করনে প্রাতিষ্টানিক শিক্ষার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে ।বিভিন্ন্ কলেজ ইউনিভার্সিটিতে সংক্ষিপ্ত সার্টিফিকেশন কোর্স রয়েছে যা থেকে একজন ব্যবসায়ী আধুনিক বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট জ্ঞান আহরন করতে পারেনটরন্টেো মন্ট্রিয়লে অনেক নতুন ব্যবসা প্রতিষ্টান গড়ে উঠছে। এটা আমাদের জন্য শুভ লক্ষন। অনেক নবাগত ইমিগ্র্যান্ট ট যাদের দায়বদ্দতা রয়েছে। তারা মাঝে মধ্যে কি ব্যবসা করবেন তা নিয়ে হোচটখান সাহায্যের জন্য কম্যুনিটির অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ছাড়াও সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে , সেখান থেকে সঠিক উপদেশ পাওয়া যেতে পারে। সিটি হলে টরন্টো এন্টারপ্রাইজ সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও অনলাইনে রয়েছে বিপুল ইনফরমেশন। ব্যাবসার ক্ষেত্রে আমাদের আরও এগ্রেসিভ হওয়া প্রয়োজন । এতে অর্থনৈতিক ফায়দা ছাড়াও আরও কয়েকটি কাজ নীরবে ঘটে চলে, নিজেদের কর্মসংস্হানের সুযোগ সৃস্টি হয় , অন্যান্য কম্যুনিটির কাছে নিজেদের উপস্হিতি ঘোষনা করা , পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা ।বিলাতে এক সময় ভাত বিক্রি করা রেস্তোরা ব্যাবসা আজ নিয়ে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য , আজ এই সাফল্যকে অনেকেই কালচার বিক্রি (ডেলিভারী) হিসাবে গর্ব করেন । পাশের নিউইয়র্ক শহরেও রেস্তোরা ব্যাবসার সফলতা আসলেও ক্যানাডাতে এর উপস্হিতি নেই বললেই চলে, শুধু মন্ট্রিয়লে কিছুটা দেখা যায় । রেস্তোরা ব্যাবসায় আমাদের সফলতা না আসার কারন অনুসন্ধান প্রয়োজন ।

 

 (৬)কমিউনিটির লিডারশীপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ- বিগত একযুগ ধরে কমিউনিটিতে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আমরা দেখেছি অনেক। অনুষ্ঠান, পাল্টা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেকে জাহির করার অনেক প্রচেষ্ঠা বাঙালি কমিউনিটির জনগণ প্রত্যজ্ঞ করেছে।এ গুলোও এক ধরনের বাঙ্গালীপনা । মূলত লিডারশীপ হচ্ছে একটি স্বত:স্ফুর্ত ব্যাপার। জোর করে লিডার হওয়া যায় না বা কুউদ্দেশ্য নিয়েও লিডার হওয়া যায় না। লিডার হওয়ার জন্য কিছু মৌলিক গুণাবলীর প্রয়োজন।বিগত এক যুগের কমিউনিটিতে আমরা সময়ে সময়ে দলীয়/রাজনৈতিক / আঞ্চলিক কমিউনিটি লিডার হওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু সঠিকভাবে কমিউনিটির আস্থাভাজন কোন নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি এর পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সেই কারণ গুলোর মধ্যে দেশীয় স্টাইলে প্রবাসে রাজনীতি, গ্রাম্য রাজনৈতিক স্টাইলে কমিউনিটি নিয়ে খেলার প্রচেষ্টা,  কমিউনিটির সুযোগ্য জ্ঞানী ব্যক্তিবৃন্দের উপদেশ না নেওয়া বা তাদেরকে দুরে সরিয়ে রা্খা। এদেশীয় শিক্ষা থেকে দুরে থাকা, ক্যানাডীয় সামাজিক এবং রাজনৈতিক সিষ্টেম সম্পর্কে অধিকাংশ বা সম্পূর্ণ অজ্ঞতা ইত্যাদি ইত্যাদি আরও বিবিধ কারণ রয়েছে। তবে মোদ্দা কথা হচ্ছে লিডার হওয়ার জন্য অন্তত মৌলিক কিছু গুণাবলী থাকতে হবে সেই সাথে সৎ উদ্দেশ্য থাকাও জরুরী লিডার হওয়ার জন্য যে মৌলিক গুণাবলীর প্রয়োজন হয় তাকে সংক্ষিপ্ত ভাবে কিয়াম দিয়ে চিহ্নিত করা যায়( KIEAM= KNOWLEDGEABLE, INTELLIGENT , EDUCATED , AVAILABILITY , MANAGEMENT SKILL,  নলেজিয়েবল, ইন্টেলিজেন্স,এডুকেশন, এবেইলেবিলিটি, মেন্যাজিং স্কিল)

কিয়ামের সাথে ক্যানেডিয়ান এডুকেশন বা সিস্টেম সম্পর্কে সার্বিক ধারনা থাকাটাও বিশেষ প্রয়োজন। সুতরাং লিডার হওয়ার জন্য যারা উৎসাহী তাদের নিজেদের এই গুণাবলী আছে কিনা তা একটু খুতিয়ে দেখে নিলেই বুঝতে পারবেন তিনি কতটুকু যোগ্য। যদি তার এই নুন্যতম যোগ্যতা না থাকে তাহলে সমাজ বা কমিউনিটি তাকে গ্রহন করবে না, তা নিশ্চিত। তাই তাকে ওগুলো অর্জনের জন্য প্রাথমিক প্রচেষ্টা করে যেতে হবে। শুধু বাংলাদেশী নয় যে কোন কমিউনিটিকে একক কোন ব্যাক্তির লিডারশীপের উপর ভিত্তি  করে কমিউনিটির কিংবা জনগণের অগ্রগতি সাধন হয় না । তবে কোন একটি অর্গেনাইজেশন যদি কমিউনিটির আস্থা অর্জনে সম্ভব হয় তখনই একক প্রতিনিধিত্ব গড়ে উঠে। সেই অর্গেনাইজেশন অবশ্যই শিক্ষিত, জ্ঞানী এবং দলীয় কোন্দলের উর্ধ্বে কোন ব্যাক্তিত্বকে জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা রাখতে হবে। ক্যানাডায় বিভিন্ন শহরের বাংলাদেশী অনেক অর্গেনাইজেশন রয়েছে। কিন্তু আস্থাভাজন কোন প্ল্যাটফর্ম বা পাদপীট এখনও গড়ে উঠতে পারেনি এই গড়ে না উঠার পেছনে অন্যতম যে কারণ রয়েছে, তার মধ্যে প্রধান একটি হচ্ছে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম ব্যক্তিবৃন্দ দুরে সরে থাকা। বাংলাদেশে গ্রাম্য রাজনীতিতে যেমন আমরা দেখেছি বিধ্বংসী খেলা এখানেও একই খেলায় মেতে রয়েছে হাজরো বাংগালী / এই খেলা শুধু আমাদেরই নয় , অন্যান্য সাউথ এশিয়ান কমুউনিটির দৃশ্যও এক ।  ভবিষ্যত দুঃস্বপ্নে বিভো্র অপরিনামদর্শী কারও জন্য পুরো কমুউনিটি পিছিয়ে থাকতে পারে না । যারা নেতৃত্ব  দিতে সক্ষ্মম  তাদেরকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন । যে কোন কমিউনিটির উন্নতি ও অগ্রগতির মুলে রয়েছে  শিক্ষা-মেধা ও তার সঠিক ব্যবহার । কলমের কাজ অন্য কিছু দিয়ে সারতে গেলে অন্ততঃ উন্নতির মুখ দেখা যাবে না ।  সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষা দিয়েও সব কাজ হয়ে উঠে না তাই প্রয়োজন সত্যিকারের শিক্ষিত স্বতঃস্ফূর্ত লিডারশীপ ব্যাক্তিত্বের আবির্ভাব ।ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে দেশের নাম নিয়ে সংগটিত  অনেক সংগঠন বিভিন্নভাবে লক্ষ ডলার খরচ করেছে সময়ে সময়ে । অথচ বিগত ১২ বছরের ইতিহাসে কমুউনিটিতে ২/১ টি ব্যতিত আর কোন সংগঠনের স্হায়ী কোন ঠিকানাও খোজে পাওয়া যায়না । এর মূলে রয়েছে ব্যাক্তি স্বার্থের উর্ধে্ব যে লিডারশীপ তার অভাব । ঐক্যের কথা বললেই ঐক্য হয়ে যায়না ব্যক্তি স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেকে তৈরী করে গ্রহনযোগ্যতা যাচাই করে নিতে হয় ।

 

 (৭)কমিউনিটির লিডারশীপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ-(২য় অংশ): ব্যক্তির লিডারশিপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক লিডারশিপে বেশ ফারাক থাকলেও একে অপরের সম্পূরক। ব্যক্তির লিডারশিপে ন্যূনতম যে যোগ্যতার কথা বিগত সংখ্যায় উল্লেখ আছে, তার সঙ্গে আরো অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান প্রয়োজন। যেমন কোন গোষ্ঠী বা কমিউনিটি লিডার হওয়ার জন্যেকিয়ামর সাথে সাথে ব্যক্তির জীবিকা র্নিবাহের মাধ্যমটাও অতি প্রয়োজনীয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশ থেকে পাশ করে আসা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ইকোনমিস্ট যদি ক্যানাডায় তার যোগ্যতানুযায়ী কাজ না পান, তবে অবশ্যই ধরে নিতে হবে এই সমাজের কাজের জন্য তিনি এখনো যোগ্য নন। তাকে এই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। অন্যদিকে একই ব্যক্তি যদি দিনমজুরের কাজ করে কমিউনিটির লিডার হওয়ার প্রচেষ্টা করেন, তাতে বিন্দুমাত্র কাজ হবে না। তার শিক্ষার সাথে তার কর্ম, তার অবস্থান এবং পার্সোনালিটি  থেকেই নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে। যখনই এই নেতৃত্ব কোন প্রতিষ্ঠান বা কমিউনিটির আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে, তখনই ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব সঠিকভাবে গড়ে না উঠার পেছনে আরেকটি কারন হচ্ছে, “পুরনো কাসুন্দি”।ওবামাপরিবর্তনের হাওয়া তুলে ক্ষমতায় এলেও, সাথে নিয়ে এসেছিলেনে ক্লিনটনের সময়েরস্টাফচিফ অব স্টাফ ইমানুয়েল রাহাম দিয়ে খুব একটা এগুনো যায়নি। অর্থাৎ নতুন পাত্রে পুরনোতাড়িদিয়ে পরিবর্তন আসেনা। নতুন নতুন সংগঠন হবে, প্রতিশ্রূতি আসবে অথচ নেতা বদল না হলে পুরনো ব্যর্থতা দিয়ে যে সংগঠনেই সাজানো হোক না কেন, রেজাল্টতো একই হবে। সুতরাং পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনে প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব, নতুন লিডারশিপ। আর তা অবশ্যই আসতে হবে তরুণ উদ্যোগী সদস্যদের কাছ থেকে, সাথে কিয়ামর প্রয়োজনীয়তাও অপরিহার্য্য ।


(৮)কম্যূনিটির  ব্যর্থতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ-     কম্যুনিটির  ব্যর্থতার ইতিহাস টানলে দেখা যাবে হাজারও ব্যর্থতা রয়েছে। এরই মধ্যে কিছু আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে কম্যুনিটির ব্যর্থতা প্রচুর। মেইন ষ্ট্রীমে আমাদের অবস্থান আশাব্যঞ্জক নয়। ক্যানাডার জাতীয় পত্রিকাগুলোতে আমাদের কম্যুনিটির নাম বেশ কবারই ফলাও করে এসেছে কিন্তু শুভ কোন সংবাদ নিয়ে নয় এসেছে দুঃসংবাদ নিয়ে।  হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে স্ত্রী হত্যা, আগুন লাগিয়ে স্ত্রী হত্যা, মহিলাদের প্রতি কঠুক্তি , কম্যুনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিবৃতি পাল্টা বিবৃতি, সংবাদ পত্র নিয়ে নিজেদের মধ্যে মামলা, ব্যবসার নামে প্রতারনা করে জাতীয় মিডিয়াতে যাওয়া,সাঈদিকে   নিয়ে মন্ট্রিয়লে তোলপাড়- মিডিয়াতে সচিত্র রিপোর্ট, ডেনিয়েল পাইপকে (এন্টি মুসলিম  )  নিয়ে  এসে  কম্যুনিটিতে বিভক্তি, সাংবাদিক সাংস্কৃতিক  কর্মীকে নাজেহাল , আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক মতামত নিয়ে  দ্বন্দ্ব বাংলাদেশ সেন্টারের  দ্বন্দ্ব নিয়ে মিডিয়াতে আসা ।বার বার  মসজিদের নামে ধর্মীয় স্থানের নামে জালিয়াতি ও পুলিশের আশ্রয়/ আগমন ।    লেখকের প্রতি কঠুক্তি, লিখা বন্ধের আন্দোলন ইত্যাদি ইত্যাদি হাজারও ব্যর্থতা রয়েছে। যে সমাজ লিখা বন্দ্বর আন্দোলন করে সে সমাজ রোগাগ্রস্থ তা নিশ্চিত । তবে নিজেদের মধ্যে হানাহানি আর ক্যানাডার জাতীয় সংবাদপত্রের শিরোনাম হওয়া এক কথা নয়। দেশ জাতি আর কম্যুনিটির   ঈজ্জত ও ভবিষ্যত নির্ভর করছে আমাদের কর্মকান্ডের উপর। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশীদেরকে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে নিজেদের  হানাহানির জন্যে। ক্যানাডা থেকে হয়তো ফেরৎ পাঠানো যাবেনা কিন্তু কম্যুনিটির  আর দেশের অগ্রগতি   বন্দ্ব হয়ে যাবে তা নিশ্চিত। তাই আমাদের মধ্যে সহনশীল মনোভাব, সাধুতা আর শিক্ষার বিস্তার ঘটানো অতীব ও প্রয়োজন।

প্রিয় পাঠক, কম্যুনিটির  দীর্ঘ ১২ বছরের পদচারনায় খুবই সংক্ষিপ্ত একটি সারাংশ  তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই তুলে ধরাই শেষ নয়। অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা বা প্রক্রিয়া হয়তো বাদ পড়তে পারে। যে গুলো বাদ পড়বে সেগুলো হয়তোবা ভবিষ্যতে কারো প্রচেস্টায় ফুটে উঠবে। কম্যুনিটির পদচারনা, অবদান ও ভবিষ্যত কার্য পদ্ধতি  নির্ধারনে এই লিখা যদি সামান্যতম অবদান রাখে তবে আমাদের কষ্ট সার্থক হবে। আমাদের ব্যর্থতা যাই থাক সফলতাও একদম কম নয়। পেছনে তাকানোর সময় নেই । এবার শুধুই পরিবর্তনের পালা, নব প্রভাতের নব আলোতে সুচিস্নান হবে। আসুন একসাথে বলি ” কে আছো জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যত”।

বিঃদ্রঃ আগামীতে সময়ে সময়ে নতুন ইনফরমেশন সংযোজিত হবে ।


Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*