পূর্ববর্তী সিনোপসিস(১/২/৩/৪/৫/৬/৭ ও ৮)

সিনোপসিস এক: মাইনোরিটিকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন ।

টরন্টো নগরীর ভিজিবল মাইনোরিটি ২০১৭-সালে মেজোরিটির স্হান দখল করে নিবে । টরন্টোতে এরই মাঝে প্রপারটি টেক্স , গাড়ী রেজিষ্ট্রেশন , এইচএসটি, এনার্জি বিল , ট্রানজিট টেক্স সহ নানাবিধ টেক্স চাপিয়ে দেয়া হচেছ । অচিরেই হাইওয়ে টোলস বসানোর চিন্তা ভাবনা চলছে । স্বল্প আয়ের ইমিগ্র্যান্টদের মেজোরিটি হয়ে উঠার যাত্রাকে রুখে দিতে এ সকল টেক্স এক বিরাট প্রতিবন্দ্বক । ইমিগ্র্যান্টদের ২% সদস্যও বাৎসরিক ৫০,০০০ ডলার আয় করে না সূতরাং বাধ্য হয়েই অনেকে অন্যত্র সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং করবেন। মাইনোরিটিকে নিরুৎসাহিত করে টরন্টো সিটি থেকে দুরে সরিয়ে ভিজিবল মাইনোরিটি করে রাখাই অত্যধিক টেক্স পরিকল্পণার কূঠকৌশল বলে অনেকের ধারনা । মাইনোরিটিকে অতিসত্তর নিজ নিজ এলাকার প্রভিন্সিয়াল এমপি ও কাউন্সিলরের মাধ্যমে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞ জনদের ধারনা ।


সিনোপসিস দুইঃ- কম্যূনিটির শিক্ষা উন্নয়নে লার্নিং সেণ্ন্টারগুলোর ভূমিকা ।

প্রজন্মের শিক্ষার উন্নয়নে পিতামাতার পাশাপাশি নীরবে যারা কাজ করে যাচ্ছে তারা হচ্ছে বাংলাদেশী লার্নিং সেণ্টার গুলো। বিশেষত: নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যানেডিয়ান এডুকেশন সিস্টেমে রাতারাতি অভিজ্ঞ করে তুলতে লার্নিং সেণ্টার গুলো পালন করছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। পাশাপাশি বাংলাদেশী ক্যানেডিয়ান যারা শিক্ষকতায় নিয়োগ প্রাপ্তির প্রচেষ্টার রয়েছেন তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনেও সেন্টারগুলো রাখছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। এছাড়া সিনিয়র স্টুডেন্ট অনেক সময় সুযোগ পাচ্ছে কাজের অভিজ্ঞতা ও কম্যূনিটি ওয়ার্কের ক্রেডিট অর্জনের সেন্টারগুলো তুলনামূলকভাবে মূলধারার টিউটর বা প্রাইভেট স্কুলের তুলনায় স্বল্পমূল্যে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ক্লাসের হোমওয়ার্ক /শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের সুযোগ করে দিয়েছে তার জন্য আমাদের কম্যূনিটি অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকবে । তবে লার্নিং সেণ্টার গুলোর দেশথেকে আসা শিক্ষকদের উচ্চারনগত সমস্যা এখানে বেড়ে উঠা বা জন্ম নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মাঝে মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি করে অনেক লার্নিং সেণ্টার এই সমস্যা দূরীকরেন ইতিমধ্যে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে । সকল লার্নিং সেণ্টারগুলোকে এই দিকে আরও বেশী নজর দেওয়ার প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞজনদের ধারনা ।

সিনোপসিস তিনঃসাংগঠনিক প্রতিনিধিত্বঃ- ১৯৭৫ থেকে এ পর্যন্ত ক্যানাডায় বাংলাদেশী সংগঠনের সংখ্যা প্রায় ৫০ টি রও বেশী। এইসব সংগঠনগুলো তাদের নিজেদের সহাবস্থান থেকে বিভিন্ন ভাবে কম্যুনিটিতে অবদান রেখে

আসছে ।আর এই অবদান রেখে আসছে বলেই কম্যুনিটির পালে আজ লেগেছে হাওয়া।কিন্তু এই দীর্ঘ পথ চলাতেও সম্পুর্ণ কম্যুনিটিকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো একক কোন সাংগঠনিক নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি,ফলে কম্যুনিটি বঞ্চিত হয়েছে ইপ্সিত লক্ষ্য থেকে।কম্যুনিটির প্রতিটি সদস্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে রয়েছে ভাল অবস্থায়, সুতরাং তরুন শিক্ষিত মেধাবী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কম্যুনিটি সদস্যদের কাছ থেকে সাংগঠনিক নেতৃত্ব আশা করছে ক্যানাডার বাংলাদেশী সমাজ।

সিনোপসিস (৪)মালটিকালচারিজম

১৯৭১ সালে ক্যানাডা ১ম মাল্টিকালচারিজমকে অফিসিয়েল স্বীকৃতির মাধ্যমে গ্রহণ করে। ক্যানাডার পূর্বে অন্যকোন দেশ মাল্টিকালচারিজমকে সরকারি ভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।অথচ দীর্ঘ ৪০ বৎসরেও ক্যানাডিয়ানরা মাল্টিকালচারিজমের মূল লক্ষ্যে পৌছাতেপারেনি।মাল্টিকালচারিজম অদ্যাবধি ইমিগ্রান্টদের ঘরের কালচার হিসেবেই ঠিকে আছে।ক্যানাডা অদ্যাবধি বারাক ওবামা, কন্ডোলিৎসা রাইস, অলব্রাইট, মিসেস ক্লিনটন জন্ম দিতে পারেনি। এড্রিনি ক্লার্কসন, মিশেল জেইন, ক্যানাডার গর্ভণর জেনারেল পদে অভিষিক্ত হয়েছেন ঠিকই কিন্তু ওগুলো হচ্ছে সিরিমোনিয়াল পদ । নীতি নির্ধারকের কোন পদ অদ্যাবধি কেউ অলংকৃত করেননি।সুতরাং সরকারের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মাল্টিকালচারিজমের সঠিক লক্ষ্যে যেন ব্যয় হয় তা দেখিয়ে দিতে ইমিগ্রান্টদেরও দায়ীত্ব রয়েছে।

সিনোপসিস (৫): ধর্মীয় স্বাধীনতা :ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে আমেরিকার সংবিধানে ধর্মীয় আচার আচরণ পালনের পুর্ণাঙ্গ অধিকার দেওয়া হয়েছে। সাংবিধানিক এ অধিকারের কথা প্রেসিডেন্ট ওবামার মুখেও বেশ জোরে সুরে উচ্চারিত হয়েছে।কিন্তু গ্রাউণ্ড জিরোর পাশে মুসলিম কম্যুনিটি সেন্টার নিয়ে সাধারণ পাবলিক সহ আমেরিকার উচ্চতর নীতি নির্ধারকদের ধর্মবিদ্বেষী মনোভাব মুলত তৃতীয় বিশ্বের ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দলের ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির প্রতিফলন বৈকি ? যে দেশের অর্ধেক জনতা সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুশীলনে (প্র্যাকটিসে) বাধা দেয়, সে দেশ ধর্মনিরপেক্ষ কি না ? বা সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা হচ্ছে কি না ? তা আজ প্রশ্নের সম্মুখীন।

সিনোপসিস(৬)সাংবিধানিক অধিকার: নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার কতটুকু ? এবং রাষ্ট্র নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় কতটুকু দায়বদ্ধ ? তা সাম্প্রতিক আমেরিকাতে ঘটে যাওয়া বা চলমান ২টি ঘটনা থেকে বিশ্ব সম্প্রদায় অনেক কিছু শিখেছে। গ্রাউণ্ড জিরোর মসজিদ নির্মাণ এবং ফ্লরিডার পেষ্টর জোনস এর কোরআন পুড়ানো ঘোষণা দুটিই নাকি আমেরিকার সাংবিধানিক অধিকার।

উভয় ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্ট ওবামার অসহায়ত্ব এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রাউণ্ড জিরোর কাছে মসজিদ তৈরি করতে হবে এমন ধরনের কোন বাধ্য-বাধকতা নেই। কিন্তু টেররিষ্টদের অবৈধ ক্রিয়াকলাপ দিয়ে সমগ্র মুসলিম জাতিকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।অন্যদিকে সাংবিধানিক অধিকারের সাথে সাথে নাগরিকের রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধও রয়েছে। শুধু অধিকারের কথা বলে ১ বিলিয়ন বিশ্বাসী মানুষের ধর্মানুভুতিতে আঘাত করা যায়না। শুধু তাই নয়, কোরআন শরীফ পুড়িয়ে পুরো রাষ্ট্রকে (আমেরিকাকে) বা রাষ্ট্রের নাগরিককে (আমেরিকানদেরকে) মৃত্যুর মুখোমুখি দাড় করানো কোন নাগরিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না। তাই পেষ্টর জোনস এর কোরআন পুড়ানোর ঘোষণা সাংবিধানিক অধিকার নয়। আমেরিকান জনগণকে বিপদে ফেলে দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ বৈ কিছুই নয়। এজন্য আমেরিকার আইন প্রণয়নকারী সংস্হাকে সাংবিধানিক অধিকারের সঠিক সংজ্ঞা ভাল করে রিভিউ করে দেখা উচিত।

 


সিনোপসিসঃবিধ্বস্তবিবেক

পাশ্চাত্যের অনেক কালচারই আজ লালন হাছনের দেশের শিরা উপ-শিরায় বহমান। পাশ্চাত্যে বৃদ্ধ মাতা-পিতাকে দেখাশোনার কোন রীতি নেই বললেই চলে, তবে এতে তেমন খুব একটা অসুবিধে হয়না।

সরকারই সেই পুরো দায়িত্বটি বহন করে। বাংলাদেশে আজ বর্ণিত পাশ্চাত্য রীতি/রেওয়াজ শুরু হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশেতো বর্ণিত অসহায় বৃদ্ধা-বৃদ্ধাকে দেখা শোনার জন্যে না আছে সরকারী কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থা, না আছে কোন সংস্থা। তা হলে এই বৃদ্ধ মা-বাবা কোথায় যাবে? সন্তানরা উচ্চ শিক্ষা নিয়ে প্রবাসে বা দেশেই বহাল তবিয়তে রয়েছে, আর জীবনের শেষ সময় এসে মা-বাবা তাদের সন্তানদের কাছে একটু আশ্রয়, একটু অন্ন, একটু চিকিৎসার জন্যে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই বিধ্বস্ত বিবেক আর অপ সংস্কৃতি আমারদেশ  থেকে দূরে রাখতে হবেই হবে। এই মানবতাহীন মর্ডানাইজেশন আর তথাকথিত অপশিক্ষা থেকে আমার দেশকে বাঁচাতেই হবে !!

Many pseudo cultural traits of the West are entering in to the cultural vein of  Lalon- Hason’s Bangladesh. One such trait is the institution of old age homes. The West has no socio-religious guidelines as to the duty of the sons to the parents at old age. So after the break of the family ties, the old parents find their shelters in the state-sponsored old age homes. In Bangladesh, this institution is in formative stage sponsored by private initiatives. In these homes, the driven-out parents are taking shelter. In our culture, parents have a special place of veneration and respect. Our religion emphasizes strongly and explicitly to take excusive care for the old parents who needs a child-like care in those days of helplessness. And in this  situation, if a parent is forcibly ousted by his/her son from the house, what can redress the plight of the victim parent. And imagine the heartless conscience of the son! Let us all stand together to resist these lost sons of our soil.

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*