(১৫)বলা যাবে না সংস্কৃতি ও দখলী মানষিকতা

সিনোপসিস ():
‘বলা যাবে না’ সংস্কৃতি ও দখলী মানষিকতা

পৃথিবীর সকল জাতির সকল সভ্যতার ইতিহাসে একটি সভ্যতা প্রাচীন ও নিরন্তর সত্য আর তা হচ্ছে বলা
র সভ্যতা। এ বলার সভ্যতা যে সমাজ বা দেশ পালন করতে ব্যর্থ হয় সেই জাতির ভাগ্য হয় বিড়ম্বিত, ইতিহাস থাকে কলঙ্কিত। মানব সভ্যতার শুরু থেকে আকারে ইঙ্গিতে মনের ভাব প্রদানের একটি মাধ্যম গড়ে উঠেছিল যা আজও বর্তমান। তারপর ভাষা মানুষের সবচেয়ে মুখ্য মাধ্যম । 

মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কর্ম পদ্ধতি থেকে শুরু করে পরিকল্পনা প্রনয়ন, যুদ্ব  প্রস্তুতি সর্বক্ষেত্রে বলার সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে আজ সবচেয়ে প্রাথমিক ও মৌলিক বিষয়। এ বলার সংস্কৃতির প্রয়োজন যখন মানুষ উপলব্ধি করতে শিখেছে খন থেকেই তাকে রাষ্টীয়ভাবে, সামাজিকভাবে লাননের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে আসতে হয়েছে। নতুন করে তাকে নাম দিয়ে সাজানো হয়েছে, বলা হয়েছে বাক স্বাধীনতা বা ইংরেজিতে Freedom of Speechউন্নত দেশগুলোতে বাকস্বাধীনতা হচ্ছে মৌলিক অধিকার তাই এখানে বলার স্বাধীনতা যেমন রয়েছে লিখার স্বাধীনতা আরও প্রকট। তারপরও এখানে ইমিগ্রান্টাররা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে না। পারে না তার কারণ হচ্ছে ২টি একটি মাল্টি কালচারিজম, আরেকটি হচ্ছে সমাজবদ্ধ হয়ে থাকা। উদাহারণ স্বরূপ ধরা যায় এখানে অনেক দেশের ইমিগ্র্যান্টিরা এখানে এসেছেন তাদের অরিজিন অব কানট্রিতে বাকস্বাধীনতার ব্যবহার তেমন নেই অথবা বাকস্বাধীনতার বিপরীত যা তাই হচ্ছে কালচারের অবস্থা। যেমন চোরকে চোর বলা যাবে না- বলতে হবে এ একটু আধটু আর কি। ঘুষখোরকে ঘুষখোর বলা যাবেনা – বলতে হবেএকটু বাড়তি আয় আর কি।
শিক্ষিত না বলে বলতে হবে মহাজ্ঞানী। অশিক্ষিতকে অশিক্ষিত বলা যাবে না
, বলতে হবে স্বশিক্ষিত। রাজাকারকে রাজাকার বলা যাবে না-বলতে হবে দেশপ্রেমিক। এই যে সংস্কৃতি, তার উৎপত্তি ও লালন মূলত: তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেই একমাত্র বিদ্যমান। তবে তৃতীয়  বিশ্বের  দেশ থেকে আসা ইমিগ্র্যান্টরা এ কালচারকে এন উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে বয়ে নিয়ে আসছে বলে এগুলো এন উন্নত দেশ গুলোতেও বিদ্যমান। এটা শিক্ষিত অশিক্ষিত সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। শুধু শিক্ষাহীনদের এর জন্য দায়ী করা যাবে না। যারা পকেটে বড় বড় কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অথচ মানষিক দারিদ্রতা বা কুশিক্ষা কাটেনি এমন লোকের সংখ্যা দরিদ্র পীড়িত দেশগুলো থেকে আসা অনেকের মাঝেই দেখা যায়। তৃতীয় বিশ্বে যেমন রাজনীতির মঞ্চ থেকে আরম্ভ করে গ্রাম পর্য্যায়ের সামাজিক সংগঠন পর্যন্ত শুধু দখলের মানষিকতা লক্ষ্যনীয় তেমনি উন্নত দেশগুলোতেও উনাদের এ দখলী মানষিকতার পরিবর্তন হয় না। আর সবচেয়ে বড় দুঃখের বিষয় হচ্ছে এ কাজটিতে শিক্ষিতজনরা এগিয়ে। দেশে যেমন দখলি স্বত্ব আইনের সাহায্য পায় এখানেও ওদের সেই একই মানষিকতা আত্মী স্বজন দল বলনিয়ে চর দখলের লড়াই চলছে চলবে এর বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারবে না , বললে তাকে বাদ রুদ্ধ করা হবে। অথচ এ এই  শিক্ষিত নামের মানষিক দৈন্যতা গ্রস্থদের   মাথায় এটা আসে না যে দখলী মানষিকতা নিয়ে পৃথিবীতে কেউ টিকে থাকতে পারে না, তার পতন অবশ্যম্ভাবী। এই যে বলা যাবে না সংস্কৃতি আর দখলী সংস্কৃতি দুই সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রয়োজন। যাদের পকেটে সার্টিফিকেট আছে তাদেরকে  মানষিক দৈন্যতা  কুচক্রী মানষিকতা বিমোচননের সার্টিফিকেট নিতে হবে উন্নত সমাজের ব্যবস্থাকে একটু খতিয়ে দেখলেই তা করা সম্ভব।

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*