স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধা আরকান আলী ভাই

জাকারিয়া চৌধুরী, ফিলাডেলফিয়া : আগের দিনের কথামত সকাল ১১টায় নিউইর্য়কের জালালাবাদ সমিতির ৩০ শে অক্টোবর ২০১১ সালের সাধারণ সভায় যোগ দেওয়ার জন্য ফিলাডেলফিয়া থেকে রওয়ানা দেই। যাত্রাপথে গ্যাসের কোনো সংকট না

হয় তার জন্য গ্যাস ট্যাংক পুর্নমাত্রায় ভরে নেয়ার জন্য পাম্পে ঢুকা মাত্রই জামান রাজা (মুক্তিযুদ্ধা কামরম্নজ জামান) লাফ দিয়ে ক্রেডিট কার্ড পাঞ্চ করে গ্যাস ভরার কাজ আরম্ব করে দেন। অবশ্য জসিম উদ্দীন ওরফে চুনু মিয়া বাধা দিয়েছেন।  সুনামগঞ্জের মামা হাসান চৌধুরীর আগ্রহে চুনু মিয়ার পাইলট জীপটি যাওয়ার বাহন হিসাবে নির্ধারিত করা হয়। আমি পাইলট জীপটির ড্রাইভার, তাই গ্যাসের দাম দেওয়ার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে, রাসত্দার টুল দেওয়ার জন্য ডলার সাজিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যাতে ভাংতির অভাব কাজে লাগিয়ে জামান মামা টুল দেওয়ার প্রতিযোগিতায় পাশ না করতে পারেন। টিক তখনই প্যান্টের পকেটে রাখা সেল ফোনটির রিং বেজে উঠলো। তাড়াহোড়া করে ফোন ধরা মাত্রই অপর প্রানত্দ থেকে ভেসে আসলো পংখী! আমি তোমার মতিন স্যার আটলান্টা থেকে বলছি; আজ সকালে আরকান আলী মারা গেছেন

কথাটা শুনে আমি নিসত্দব্ধ হয়ে যাই, এরপর একজন মুসলমান মারা যাওয়ার সংবাদ পেয়ে যে দোয়াটি পড়তে হয় আমি আবেগ তাড়িত হয়ে একটু উচ্চ সুরেই তা পড়লাম। আমার এই দোয়া-কালাম পড়া শুনে সহযাত্রীরা ফ্যাকাশে মুখ করে আমার দিকে তাকালেন। আমি কাউকে কোনো কথা না বলে টেলিফোনে আমার শ্রদ্ধেয় মতিন স্যারের সাথে কথা চালিয়ে গেলাম। জানতে চাইলাম আরকান ভাইয়ের স্ত্রী ও ছেলেরা কেমন আছেন ? লাশ কি দেশে পাঠাবেন ? না আটলান্টায় দাফন করবেন ? আটলান্টায় দাফন করলে এখানে কি দাফনের সুবন্দোবসত্দ আছে ? স্যার উত্তরে বললেন লাশ পাঠানোর জন্য দেশ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে; কিন্তু আমরা প্রায় সিদ্ধানত্দ নিয়েছি আটলান্টায়ই দাফন করবো। আমি আর কথা বা বাড়িয়ে স্যারকে বললাম কোন সাহয্যের দরকার হলে আমাকে জানাবেন। আমি পরে আপনাকে কল করে বাদবাকী বিসত্দারিত জানাবো। আমি এখন নিউইর্য়ক এর পথে রাসত্দায় আছি।
আজ জালালাবাদ সমিতির সাধারণ সভা আছে
, ঐখানে আরকান ভাইয়ের বন্ধু-বান্ধদেরকে এই মৃতু্য সংবাদটি দেবো। এই বলে টেলিফোনের লাইন কেটে দিলাম। সহযাত্রীদেরকে আরকান ভাইয়ের পরিচিতি ও আমার সাথে তার সম্পর্কের একটি সংৰিপ্ত বিবরণ দিয়ে আমার স্ত্রীকে ফোনে এই দুঃসংবাদটি জানিয়ে দিলাম। গত বৎসর ডিসেম্বর মাসে আমরা আটলান্টা ভ্রমন করায় আমার স্ত্রী মুক্তিযুদ্ধা আরকান ভাইয়ের সাথে বিশেষ ভাবে পরিচিত হয়েছেন। তাই আমার সাথে আমার জীবনসঙ্গিনীও এই মৃতু্য সংবাদে দুঃখের ভাগীদার হোন। আরকান ভাইয়ের রোগের সংবাদটি মৃতু্যর সপ্তাহখানেক আগে আমার শ্রদ্ধেয় স্যার আমাকে অবহিত করেছিলেন। আটলান্টা বসবাসকারি আমার আত্মীয় মকসুদ মামাও ফোনে আমাকে না পেয়ে ফোনবার্তার বিশেষ প্রোগ্রামে ম্যাসেইজ রেখেছিলেন। তারপর আরকান ভাইয়ের ঘরের ফোনে আমি ফোন করেছিলাম। ভাবীকে বললাম আমি স্যার এর কাছ থেকে সবকিছু জেনেছি। এখন আরকান ভাইয়ের সাথে একটু কথা বলতে চাই। ভাবী বললেন; ‘ উনি ফোনে কথা বলতে খুবই কষ্ট হয়, চিকিৎসার একটি অংশ শেষ হয়েছে, কিমো থ্যারাপির কাজ কিছু দিনের মধ্যে আরম্ভ হবে।সবশুনে আমি বললাম: টিক আছে! আপনি আরকান ভাইকে আমার সালাম দেবেন এবং একটু সুস্থ হলে আমি তিনির সঙ্গে কথা বলবো। সেই থেকে একটু সুস্থতার সংবাদের অপেৰায় ছিলাম। উলেস্নখ্য যে আরকান ভাই ও আমি একই হাইস্কুলের ছাত্র। আমি যখন ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হই তখন আরকান ভাই স্কুল জীবন শেষ করে সিলেট এম সি কলেজের ২য় অথবা ৩য় বর্ষের ছাত্র। উনার একটি বিশেষত্ব ছিল তিনি এই স্কুলের প্রথম ব্যাচে মেট্রিক পাশ করেছিলেন। অত্যনত্দ মেধাবী ও মিশুক ছিলেন বলে তিনির সময়ে যে সব ছাত্র অই স্কুলে ছিল তাদের উপর তখনও তার প্রভাব পরিলৰিত হতো। তা ছাড়া কলেজ ছুটির দিনে বাড়ীতে আসলেই সবার সাথে দেখা সাৰাত করতেন। এলাকার কাহারো কাছে শুধু আরকান, আবার কাহারো কাছে আরকান ভাই বলে পরিচিত ছিলেন।

আমিও আমার শ্রদ্ধেয় মতিন স্যার সিলেট জেলার এবং আরকান ভাই মৌলভী বাজার এলাকার অধিবাসী হলেও আমরা বড় পরিসরে একই এলাকার লোক; তাই প্রায়ই দেখতাম আরকান ভাই হাসিমুখে দরাজ গলায় বিভিন্ন লোকের সাথে কথাবার্তা বলছেন। মুখের মধ্যে যেন হাসি লেগেই আছে। আরকান ভাই বাম রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তাই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর বিশেষ গেরিলা ট্রেনিং এর জন্য অন্যান্য কিছু ছাত্র ইউনিয়ন ও বামপন্থী দলের লোকের সাথে তাহাকে ও রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বামপন্থী ছাত্র রাজনৈতিক দলের কোনো বড় পদে ছিলেন কি না তা আমার জানা নেই। আমি বিশ্বাস করি তিনি কোনো পদ বা পদবীর জন্য কখনও লালায়িত নন। এক কালের সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, পরে আওয়ামী লীগ নেতা ও বিয়ানীবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান, জনাব আব্দুল খালিক মায়নভাই মারা যাওয়ার পর, নিউইর্য়ক থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকায় সুব্রত বিশ্বাসের লেখা একটি প্রতিবেদনে দেখলাম মায়ন ভাইসহ বহ উচ্চ পদের ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকর্তা বিশেষ গেরিলা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। আরকান ভাই এই গ্রম্নপের কোম্পানী কামা-ার ছিলেন। আরকান ভাইয়ের শোক সভায় উনার বহু বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের আলোচনা হয়, আরকান ভাইয়ের তীৰ্ন দৰতা ও তড়িৎ সিদ্ধানত্দ নেওয়ার কারণে পাক বাহিনীর সাথে মুখামুখি যুদ্ধেও তার বাহিনীর কোন সদস্যের প্রাণহানী ঘটেনি। স্বাধীনতার পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার শেষ করে প্রথমে একটি বিদেশী এনজিওতে এবং পরে মুক্তিযুদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন।
১৯৯৯ খ্রীষ্টাব্দে আমি আমেরিকায় চলে আসার কিছুদিন পরে জানলাম আরকান ভাই ও এসেছেন
, ডাউন টাউনে উনার এক বন্ধুর সাথে থাকেন। ঠিকানা নিয়ে তার বন্ধুর বাসায় গেলাম। মনে একটু চিনত্দা হলো তিনি আমাকে চিনেন কি না ? কারণ দেশে তাঁর সাথে আমার কোনো কথা বলার সুযোগ হয়নি। শুধু দূর থেকে কথাবার্তা, বাচন ভঙ্গি, নেতা-সুলভ আচরণ, অবলোকন করেছি। আমি সালাম কালাম শেষ করা মাত্রই তিনি বলতে শুরম্ন করলেন, আমি কেমন আছি ? কখন এই দেশে এসেছি ? আমার মাহতাব চাচা ও আপ্তাব চাচার কথা যখন জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তখন ঠিকই বুঝলাম আমাকে চিনেই ভালোমন্দ সব জিজ্ঞাসা করছেন। এই থেকে তাঁর সাথে আমার ঘনিষ্ট সম্পর্ক দিন দিন বেড়েই চললো। কথা প্রসঙ্গে জানলাম আপ্তাব চাচা উনার ক্লাসমেইট ছিলেন। আর মাহতাব চাচা তিনির সিনিয়র। আরও বললেন মাহতাব ভাই আমাদের স্কুল থেকে ৮ম শ্রেণীর পড়া শেষে বিয়ানী বাজার হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেছেন। কারণ শাহবাজপুর হাইস্কুল তষনও জুনিয়র হাইস্কুল ছিল। আরকান ভাই ভদ্রতার সঙ্গে জী্ব-আপনি করে আমার সাথে কথা বলায়, আমি খুবই লজ্জাবোধ করছিলাম, তাই আমি তাঁহাকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করি আমাকে যেন আপনিনা বলে তুমিবলে কথা বললে খুশি হবো। কিন্তু তিনি আমার কথা রাখেননি।
আমি তখন নিউইর্য়ক সিটির পার্কচেষ্টারে আমাদের পরিবারের কিছু ব্যাচেলার মেম্বারদের সাথে থাকি। এবং ছুটির দিন কিছু বন্ধু বান্ধব মিলে একত্রে খাওয়া দাওয়া করি। একদিন ছুটির দিনে অন্যান্য বন্ধুদের সাথে আরকান ভাইকে আসার জন্য অনুরোধ করায় তিনি রাজি হলেন। কিন্তু আমার এক বন্ধু বললেন তিনি না ও আসতে পারেন। কিন্তু আরকান ভাই ঠিক সময়েই দেশী কায়দায় মিষ্টি টিষ্টি নিয়ে হাজির হলেন। তাঁর আগমনে আমি খুবই মুগ্ধ হলাম। খাওয়া দাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধকালীন অনেক কাহিনী তাঁর কাছ থেকে শুনলাম।
একদিন লাঞ্চে তাঁর বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়ে নিজ হাতের তৈরি খাবারের বাহার ও সাজানো গুছানো অবস্থা দেখে মনে হলো তিনি একজন দৰ অতিথি আপ্যায়ক। কোনো দিগ দিয়েই যেন তার দৰতার ঘাটতি নেই। ১৯৯৩ সালের মাঝামাঝি সময় আমি নিউইর্য়ক থেকে নিউজার্সি চলে আসি। অই বৎসরই নিউজার্সিতে আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধা আরকান ভাই উপস্থিত হয়ে আমার কোনো সাহায্য সহযোগিতার দরকার আছে কিনা জানতে চান। সাহায্যের দরকার হলে অবশ্যই আমি আপনাকে জানাবো বলে তাঁকে আশ্বসত্দ করি।
নিউজার্সি আসার পর দূরত্বের জন্য আমাদের সম্পর্কের কিছুটা ভাটা পড়ে। বছর খানেক পর তিনি দেশে চলে যান। তারপর অনেক দিন আর তাঁর সাথে যোগাযোগ হয়নি। তবে মাঝে মধ্যে মতিন স্যারের মাধ্যমে খবর পেতাম। কথা প্রসঙ্গে স্যার একদিন বললেন
আরকান আলীকে মিশিগান থেকে স্বপরিবারে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আটলান্টায় নিয়ে এসেছি। হেড মাষ্টার মতিন স্যার আরকান ভাইয়ের দুই ক্লাসের সিনিয়র। একই এলাকার একই কলেজে পড়াশুনা করায় উনাদের সমর্্পক অত্যনত্দ প্রগাড়। আরকান ভাই মতিন স্যারকে “মতিন ভাই” আর স্যার “আরকান আলী” বলে সংবোধন করতেন।
গত বৎসর ২০১০ খ্রীষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে আমার শশুর বাড়ীর এক আত্মীয়ের বাসায় দুই সপ্তাহের জন্য স্বপরিবারে আটলান্টায় যাওয়ার সিদ্ধানত্দ নেই। আমাদের ফিলাডেলফিয়া থেকে আটলান্টা রোড পথে ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টার পথ। অইখানে আমাদের এলাকার অনেক লোক থাকেন। এত দূরে এসে সবার সাথে দেখা সাৰাত হবে না
; তা কেমন করে হয় ? তাই যাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে আমাদের এলাকার প্রায় সবার সাথে পরিচিত স্যারের ভাতিজা, আমার স্নেহের ছোট্ট ভাই তুল্য রোকনকেআমার আটলান্টার ভিজিটের কথা জানিয়ে দিলাম এবং তার কাছ থেকে রাসত্দার কিছুটা আইডিয়াও নিয়ে নিলাম।
স্বদেশে আমার এলাকা সম্পর্কে পাঠকদের সামান্য ধারনা দেওয়া প্রয়োজন বোধ করছি। এলাকাটি হলো সিলেট জেলারও মৌলভীবাজার কিছু অংশ যা বৃটিশ আমলে শাহবাজপুর পরগণা ছিল। শাহবাজপুর রেলষ্টেশন (পুরাতন লাতু ষ্টেশন) কে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৬ বর্গমাইল এলাকাকে আমাদের এলাকা বলে ধরে নেওয়া হয়।
আরকান ভাই
, হাফিজ উদ্দিন রোকনের কাছ থেকে আমার সেল ফোনের নাম্বার নিয়ে আমাকে ফোন করলেন, পরিচয় দিয়েই বললেন আমি কোন দিন, কোন সময়, আটলান্টার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেব ? আমি তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বললাম আমি ভেবে ছিলাম এসেই আপনার সাথে যোগাযোগ করবো। মকসুদ মামার পরিচয় দিয়ে বললাম আমি তিনির ঘরে উঠবো। আলাপে বুঝলাম মকসুদ মামার সাথে আরকান ভাইয়ের ভালো জানাশুনা আছে। নির্ধারিত দিনে খুব ভোরে আটলান্টার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। পথে সামান্য বিরতি নিয়ে রাত প্রায় ৯টার দিগে গনত্দব্য স্থলে পৌছে যাই। বাথরম্নম থেকে ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে দেখি ডাইনিং টেবিলে খাবার রেডি। তাই কাউকে আর ফোন করতে পারলাম না। অবশ্য বাইরে থাকতে দুএকবার আরকান ভাই ও রোকনের সাথে কথা হয়েছে। ডাইনিং টেবিলের কাজ শেষ করে লিভিং রোমে বসে একটু রেষ্ট নিচ্ছি, তখনই সেল ফোনটি বেজে উঠলো। ফোন করে আরকান ভাইকে বললাম পৌছার খবরটি জানাতে না পারায় আমি দুঃখিত।ভালো মন্দ ও রাসত্দায় কোন অসুবিধা হয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করে তিনি বললেন রেষ্ট নেন আগামী কাল দেখা হবে। আসার পথে তেমন কিছু দেখিনি, কারণ আটলান্টা সিটি পৌছার আগেই সন্ধ্যা হয়ে গেছে। জিপিএস (পথ নির্দেশক যন্ত্র) অনেকটা বাটি চালানোর মতো গনত্দব্যে পৌছে দিয়েছে। তাই ঘুম থেকে উঠে চা বিস্কুট খেয়ে লিভিং রোমের জানালা দিয়ে আটলান্টা সিটিকে একনজর দেখছি। দেখলাম আরকান ভাই গাড়ী পার্ক করে বাহির হচ্ছেন। ১৯৯৩ খৃষ্টাব্দে উনাকে যে ভাবে দেখেছিলাম আজ ২০১০ খ্রীষ্টাব্দ, প্রায় সতেরো বছর পর একই রকম দেখা যাচ্ছে। শরীরের মধ্যে কোনো বয়েসের ছাপ নেই। সুঠাম দেহ যেন চিরকুমার। আমি দরজা খুলে তিনিকে সালাম দিলাম, কোলাকুলি শেষে লিভিং রোমে চলে এলাম। তাঁর হাসিমাখা মুখে দরাজ গলার কথা শুনছি, ইতিমধ্যে মকসুদ মামা ও চলে এলেন। নানান বিষয়ে আলাপ করছি এর ফাঁকে মকসুদ মামা চা নাসত্দা নিয়ে হাজির। মকসুদ মামাকে বললেন আগামী সোমবার আপনার বাসার সবাইকে আমার বাসায় ডিনার করাতে চাই। আশা করি মকসুদ ভাই আমার এই আবদারটি রাখবেন। তাঁহার এরকম আবেগময় প্রসত্দাবে মকসুদ মামা অনেকটা তাল হারিয়ে বললেন মামারা (অর্থাৎ আমরা যারা ফিলাডেলফিয়া থেকে আগত) যাবেন। উত্তরে আরকান ভাই বললেন আপনাদের জন্য আমি এসেছিআমাকে দেখিয়ে বললেন তিনিরা এত দূর থেকে এসে আমাদেরকে না দেখে যাবেন, এটা আমি বিশ্বাস করতে পারিনা। তাঁর কথার মধ্যে আমিও যোগ দিয়ে বললাম আরকান ভাই খাওয়া দাওয়ার জন্য ভাবীকে কষ্ট দেবেন না। আমরা আপনার বাসায় গিয়ে চা বিস্কুট খেয়ে ভাবীর সাথে পরিচয় করিয়ে নেবো। উত্তরে আরকান ভাই বললেন একটু খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে আপনারা একটু বেশি সময় দিবেন। আমার ছেলেরা বড় হয়েছে ওদের সাথে পরিচয় না হলে ওদের বিয়ে-শাদী ব্যাপারে কেহ কিছু জানতে চাইলে কি বলবেন‘? বুঝলাম তার রসালো ও ধারালো যুক্তি আমার দ্বারা খ-ন করা সম্ভব হবে না। তখন কথার মোড় ঘুরিয়ে অন্য প্রসঙ্গ চলে গেলাম।
দিনের ঘুরাঘুরিটা একটু কমিয়ে বাসায় ফিরলাম
, যাতে সময় মতো আরকান ভাইয়ের দরজায় হাজির হতে পারি। এর মধ্যে ফোনে একবার আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মকসুদ মামার পরিবারের কেহ যেন মিস না হোন। সবাই যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি , মকসুদ মামার শাশুড়ি আমার স্ত্রীর ফুফাতো বোন তিনিও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু কেলির কোনো সাড়া নেই। আমি কেলিকে বললাম তুমি এখনও রেডি হও নি কেন ? উত্তরে সে বললো খালু আমাদের তরফ থেকে আমার মা আর আপনার দামান্দ তো যাচ্ছেন। আমি একটু বিরক্ত সুরে বললামতাড়াতাড়ি রেডি হও। তোমাদের যাওয়া কনর্ফাম করার জন্য আরকান ভাই বার বার ফোন করছেন এবং তোমাদের জন্য বাসায় এসে দাওয়াত দিয়ে গেছেন।
বাসার সামনে গাড়ী যাওয়ার সাথে সাথেই উনি ইশারা দিয়ে পার্কিং এর যায়গা দেখিয়ে দিলেন। বুঝলাম আমাদের জন্য উনি অপেৰায় ছিলেন। দরজায় উনার পেছনে ভাবীও দাড়িয়ে আছেন। সালাম কালামের পর্ব শেষ করে লিভিং রোমের এক পার্শের সোফায় কাপ্তান ভাই মকসুদ মামা ও আমি বসলাম। অন্য পার্শের সোফায় মহিলারা বসে পড়লেন। আরকান ভাই একটি চেয়ার এনে আমাদের সোফার সাথে সংযুক্ত করে বসলেন। ভাবী চা পানির জন্য ব্যসত্দ হয়ে গেলেন। কিছুৰণ পর তাঁর দুই ছেলে চলে আসলো। বড় ছেলেকে দেখিয়ে বললেন
সে মাস্টারস শেষ করে ফুল টাইম চাকুরি করছে এবং ছোটটি এখনও লেখাপড়া করে। পার্ট-টাইম কাজ ও করে। ভাবী কি করেন আমি জানতে চাইলে বললেন তিনিও মাঝে মধ্যে পার্টটাইম কাজ করেন।
সুন্দর সিঙ্গল বাড়ী। বর্তমানে দাম কমে গেছে। লোন মডিফিকেশন করতে চেয়েছিলাম
, কিন্তু হবে না কারণ লোন এ ছেলের নাম আছে। ছেলের ইনকাম বেশি। বললেন আরকান ভাই। মনে হলো স্পেশাল গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে দেশ স্বাধীন করে যখন ৰুধা দারিদ্র রাজনৈতিক হীনমন্যতা দূনর্ীতি স্বজনপ্রীতি থেকে দেশকে উদ্ধার করতে না পারলেও আমেরিকায় এসে একটি সুখী সুন্দর সংসার গড়তে পেরেছেন। ভাবী ও তার কাজ শেষ করে লিভিং রোমে এসেছেন। সবাই এখন ভাবী কেন্দ্রিক হয়ে গেছেন। এর ফাঁকে আরকান ভাই উনার বিয়ের এ্যালবামটি নিয়ে এসেছেন। এ্যালবামটি খোলে বললেন এই দেখো হেড মাষ্টার জনাব আছদ্দর আলী সাহেবআমার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। তিনির কঠোর শাসনের মধ্যে হাইস্কুল জীবন শেষ করেছিলাম। ত্রিশ পয়ত্রিশ বছর হয়ে যাবে তিনিকে দেখিনি। আবেগে বার বার ছবিটি দেখলাম। তিনি আরকান ভাইয়েরও শিৰক। এর পর একে একে ছবি দেখিয়ে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি ছবি দেখিয়ে যখন বললেন উনি আমাদের পান্না ভাবী, আমার ডাক্তার সমন্ধিকের স্ত্রী। ছবিটি আমার পরিচিত মনে হলো আমি আরকান ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার পান্না ভাবীর বাড়ী কি মৌলভীবাজারের আশিয়ার কুরিরি বাড়ী ? তিনি বললেন ঠিকই, তাহলে উনি আমার ভাগনী; মায়ের দিগ দিয়ে। আমার কলেজ জীবনে আমার থাকার ব্যবস্থা হয়ে ছিল আমার খালাতো ভাই সিলেট সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এককালের ন্যাপ নেতা পরে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত জনাব এ, এইচ সাদত খাঁন সাহেবের সিলেটের বাসায়। ঐ বাসা থেকে পানস্নাও এস এস সি পরীৰা দিয়েছিল। তাই অনেক দিন পরও তাকে চিনতে অসুবিধা হয়না। ভাবীর কাছ থেকে পান্নার ভাই বোনদের খবর নিয়ে নিলাম। ডাইনিং টেবিল প্রস্তুত করার জন্য ধীরে ধীরে ভাবীও কিছুটা ব্যসত্দ হয়ে গেলেন। আমাদের আসরে ভাটির টান ধরলো। অনেকে লিভিং রোম থেকে চলে গেছেন। আরকান ভাই আমার স্ত্রীকে লৰ্য করে বললেন ভাবী আপনাদের বিয়েতে ছিলাম কিন্তু, আপনাদের সম্বন্ধে কিছু জানার সুযোগ হয় নি।
আমি দেখলাম রাত অনেক হয়ে যাচ্ছে
, যেদিগে গেলে উনি সহজে চিনতে পারেন সেদিগে পথ ধরলাম। বললাম আমার শ্বাশুড়ের নাম উসত্দার মিয়া, বালাগঞ্জ বাজারের একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। কাপ্তান ভাইকে দেখিয়ে বললাম এর পর উনার আব্বা আমার বড় চাচা শ্বাশুড় নাম আফতাব মিয়া উনিও ব্যবসায়ী ছিলেন। উনারা দুনুজন এখন দুনিয়াতে নেই। দ্বিতীয় চাচা শ্বশুড়ের নাম ডাঃ কামরম্নজ জামান, সিলেট নাইওরপুরে প্রাকটিস করতেন পরে চাকুরি নিয়ে সৌদি আরব চলে যান। বর্তমানে সিলেট লন্ডনে পালাক্রমে থাকেন। তৃতীয় চাচা শ্বশুর হলেন ব্যরিষ্টার শামসুজ্জামান, তিনি ল-নে থাকেন, তিনি বাংলাদেশের আলোচিত নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আজিজ সাহেবের শালীর জামাই। সবচেয়ে ছোট চাচা শ্বাশুড় আব্দুস শহীদ সিলেট সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি নিয়ে পরে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টারস করেন। আপনার সম-সাময়িক হবেন। কলেজ জীবনে ইসলামি ছাত্র সংঘে জড়িত ছিলেন। শুনেই আরকান ভাই বললেন ওহ! আমাদের শহীদ ভাই! আমরা একসাথে ডিগ্রি কলেজের হোষ্টেলের সেকে- বেস্নাকে ছিলাম। খুব সুন্দর করে কথা বলতেন, অনেক দিন পর খোঁজ পেলাম। ছেলেমেয়ে কয়জন ? বিয়ে করেছেন কোথায় ? এক সাথে অনেক প্রশ্ন করে বসলেন। বললাম শহীদ চাচা ল-নে বিয়ে করেছেন। চাচীর বাবার বাড়ী নবীগঞ্জ। উনার তিন মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে ডাক্তারি পড়া শেষ করে রেসিডেন্সি করছে। বাদবাকি বলার আগেই আরকান ভাই বলে উঠলেন ছেলে বউ পেয়ে গেছি। আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন আরে শহীদ ভাইয়ের নাম্বারটি দাও আমি এখনই ফোন করবো। আমি জোঁক করে বললাম জামাই দেখার কাজ তো শেষ। ভাই বোনের সাথে এক দুলাভাইও দেখলেন, তারপরও কি ? দেখার বাকি থাকলো ? আরকান ভাই স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে বললেন ঠিকই তোশহীদ চাচার নাম্বারটি ঐ মুহূর্তে আমার স্মরণে ছিল না। পরে ফিলাডেলফিয়ায় এসে নাম্বারটি দিলাম। অন্যদিনের মতো আজও সাজু (রোকনের ছোট্ট ভাই) ফোন করে বললো আপনি ভাবীকে নিয়ে আমার বাসায় উঠবেন। উল্টো ভাবী আমাকে নিয়ে উনার আত্মীয়ের বাসায় চলে গেলেন। গণতন্ত্রতো শুধু পড়লে হবে না। প্রাকটিস করতে হয়। আমি তাই করছি। তোমার ভাবীর বোন ও ভাইসহ তারা তিনজন। পরিষদে তাদের মেজোরিটি। ওয়াক আউট করার মতো কোন সুযোগ ও আমার কাছে নেই। তার পৰ নিয়ে বললাম ভাইআমাদের ভাগ্য খারাপ।
সাজু আমাকে জানালো আগামীকাল আমরা কোথায়ও যেতে চাইলে সে নিয়ে যেতে পারবে। বললাম তেমন কিছু নেই। সকালের দিকে একুরিয়াম যাবো
, রাজু ( আমার স্ত্রীর ফুফাতো বোনের ছেলে) নিয়ে যাবে। রাত্রে তেমন কিছু হাতে নেই। সাথে সাথে বলে ফেললোতা হলে রাত্রে ভাবীর আত্মীয়সহ আপনারা আমার বাসায় খাবেন। ক্যাডেট কলেজে পড়ুয়া ছাত্র আমি যাতে কোন বাহানা না করতে পারি সেই জন্য কৌশলে আমার আগামী কালের কেজুয়েল জেনে নিল। তাই সুবোধ বালকের ন্যায় রাজি হয়ে গেলাম। পাশেই দেখতে পেলাম খয়রম্নন আপা। বললাম আপা আগামী কাল রাত্রে আমার এক ছোট ভাই তার ঘরে আপনারা খেতে হবে। সন্ধ্যায় সে আসবে। আপনাদেরকে নেওয়ার জন্য। শুনে উনি বললেন ভাই আপনি এ কি করছেন ? সুমি (রাজুর স্ত্রী) ব্যাংক থেকে ছুটি নিয়েছে। আমাদের ঘরেতো আপনাদের তেমন খাওয়া ও হয় নি। আপনার এই ভাইকে একটু অনুরোধ করে নাকরে দিন। রাজু চলিস্নশ মাইল দূর থেকে আসত্দা একটা গরম্ন জবাই করে নিয়ে এসেছে। আমরা চলে যাবো। আমাদের জন্য আনা ফুড পড়ে থাকবে। আপা কেন ? আমারও তো খারাপ লাগছে। করার কিছু নেই, আমি লাচার। যেভাবেই হোক আপনাকেই আমার ম্যানেজ করতে হবে। বললাম আপা সাজু নিউইর্য়ক গেলে ৮০ থেকে ৯০ মাইল ড্রাইব করে, আমাদেরকে দেখতে যায়। তাছাড়া তার ঘরে তো একদিন যেতেই হবে। সুতরাং এখন তাকে আর হতাশ করা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। ধীরে ধীরে এই বোনকে প্রায় নিউট্রেল করে ফেলেছি।
তানবীর (আমার স্ত্রীর বোনের ছেলে) আমার কাছে এসেই বললো
খালু আমি যেতে পারবো নাআমি একুরিয়ামে যাবো। আপনারা এসেছেন ওবাসায় যাবেন, যাবেন আর শুধু খাও খাও গান শুনবেন। আমি বললাম আরে বাবা আমরাওতো কালকে একুরিয়াম যাচ্ছি। তোর রাজু ভাই কাল ছুটি নিয়েছে। তাছাড়া আমরা তো রাত্রে ঐ বাসায় যাবো। তোর তো কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তারপরও সে মুখ ভার করে মাথা নেড়ে বললো “আমি যাইতামনায়” এতো দেখি বাঁশ থেকে কঞ্চি দৃঢ়।
সন্ধ্যায় জর্জিয়া বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কিছু অংশ দেখে সাজুর বাসায় চলে এলাম। রোকনও মতিন স্যার
, মকসুদ মামা, কাপ্তান ভাই ও আমাকে নিয়ে লিভিং রোমে চলে গেলেন। সাজু এত লোক জড়ো করেছে কে কোথায় আছে বাহির করা কষ্টসাধ্য। প্রায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো। রোকনকে বললাম আজ তোমার রেষ্টুরেন্ট কে দেখাশুনা করবে ? সে বললো আরকান চাচা আছেন। আগে তিনি হোটেলে কাজ করতেন ঐ কাজ যাওয়ার পর আমি গিয়ে বললাম চাচা আমাকে একটু সাহায্য করম্নন। আরাকান চাচা আমার দিকে চেয়ে না বলতে পারলেন না। কারণ তিনি আমাকে খুবই স্নেহ করেন।
এক কালের শাহবাজপুর হাইস্কুলের মতিন স্যার পরে পূর্ব মুড়িয়া হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হেড মাষ্টার হয়ে যান। এলাকায় মতিন স্যার এখন হেডমাষ্টার নামে পরিচিত। রোকনের কথার রেশ ধরে মতিন স্যার বললেন
নতুন লোক আসলে তাকে দাওয়াত খাওয়ানো সোসিয়েল সিকোরিটি অফিসে নিয়ে যাওয়া আরকান আলীর নিত্য দিনের কাজ। আর ছুটির দিনে সামান্য সময়ের জন্য পরিচিতদের বাসায় বাসায় আরকান আলীর ভাষায় ঢু মারাএকটা রেওয়াজ। সবার কথায় প্রকাশ হলো আরকান আলী ভাই অত্যনত্দ সাহায্যকারি ও সামাজিক লোক। আগের রাত্রে অন্যান্যদের মতো আরকান ভাইয়ের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে নিলাম। ফিলাডেলফিয়া এসে পৌছার সংবাদ জানালাম। এর পর আরও দুই তিনবার ফোনে আলাপ হয়েছে। ফিলাডেলফিয়া থেকে নিউইর্য়ক পর্যনত্দ রাসত্দায় এক মিনিটের জন্য আমি আরকান ভাইকে ভুলতে পারি নি। বার বার উনার হাসিমাখা মুখটি আমার অনত্দরে ফুটে উঠলো। লিভার ক্যানসার অত্যনত্দ জটিল রোগ। তিনি মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার আগ পর্যনত্দ আমি কখনও মনে করিনি উনি মারা যাবেন। আমি মন থেকেই সুস্থতার অপেৰা করছি আর একটু কথা বলবো বলে মনে মনে দিন গুণছি।
কিছুৰণের মধ্যে জালালাবাদ সমিতির সাধারণ সভার কাজ আরম্ব হবে । সাধারণ সম্পাদক জিলস্নু ভাইর দৌড় ঝাপ বেড়ে গেছে। আমি এগিয়ে গিয়ে একটু উচ্চ স্বরে বললাম জিলস্নু ভাই
; ‘আজ সকালে আটলান্টায় মুক্তিযুদ্ধা আরকান আলী ভাই মারা গেছেন। সভায় উনার জন্য শোক প্রসত্দাব রাখবেন। আমার কথা শুনে সমিতির উপদেষ্টা দিরাই নিবাসী জনাব তোফায়েল চৌধুরী সাহেব এমন ভাবে আমার দিগে তাকালেন মনে হলো উনি আরকান ভাইকে বেশ চিনেন। আমি উনার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই আপনি কি উনাকে চিনেন ? তিনি বললেন চিনি মানে ? আমি গত ডিসেম্বরে উনার বাসায় দাওয়াত খেয়ে এসেছি। বুঝলাম উনিও আমার মতো শোকে জর্জরিত। আজ ১৬ই ডিসেম্বর, দেশে বিদেশে সর্বত্র বিজয় দিবস উপলৰে দিনটি পালিত হচ্ছে। তাই এমন দিনে শ্রদ্ধেয় মুক্তিযুদ্ধা আরকান ভাইয়ের কথা আমাকে অহরহ বিরহের আগুনে দগ্ধ করে যাচ্ছে। আলস্নাহ যেন তার রম্নহের মাগফেরাত করে জান্নাতবাসী করেন।

 

 

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*